
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারের একমাত্র খালটির অস্তিত্ব নেই। কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ স্টেশন রোড থেকে বড় মসজিদ ও রজনীগন্ধা মার্কেটের উত্তর পাশ এবং থানা লাগোয়া (দক্ষিণ পাশ) বোয়ালজুড়ি খাল সংযুক্ত এ খালটির অবস্থান। বর্তমানে হারিয়ে যাওয়া খালটি পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার খাল খনন কর্মসূচীর উপর গুরুত্বারোপ এবং চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হকের নির্দেশনায় মঙ্গলবার (৫ মে) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন খালটির অবস্থান নির্ধারণে পরিদর্শনে যান।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান’সহ উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা দখলকৃত স্থান পরিদর্শন পূর্বক সিএস, আরএস ও নকশা’সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্লেষণ করেন।
জানা গেছে, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন সাবেক ২১৩ হাল ৮৩নং মকিমাবাদ মৌজার সাবেক সিএস ও নকশা অনুযায়ী ২০৩১ ও ২১৬৪ দাগে ৫৬ শতাংশ খাল রয়েছে। কিন্তু কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে খালের অস্তিত্ব নেই। এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ প্রভাবশালীদের দখল রয়েছে। বাকি অংশ বাজারের আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। এখনো দখল ও আবর্জনা ফেলে ভরাট কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্প্রতি বাধা উপেক্ষা করে খালের উপর বর্তমানে ভরাটকৃত অংশে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কর্তৃপক্ষ পানির ট্যাংক রাখার জন্য পাকাস্থাপনা নির্মান করেছেন। এমন অভিযোগ করেছেন, পৌর ভূমি অফিসের কর্তারা। এছাড়া খালের উপর মসজিদ কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে টয়লেট, রান্নাঘর, মার্কেট’সহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের মোতওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ বলেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ সরকারি কিংবা অন্য কারো ভূমি দখল করে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করেনি। সম্প্রতি যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। বিএস মূলে কমপ্লেক্সের মালিকীয় সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পৌর ভূমি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান মুন্সী বলেন, সিএস ও নকশা অনুযায়ী ২১৩নং হাল ৮৩নং মকিমাবাদ মৌজার ২০৩১ ও ২১৬৪ দাগে খাল উল্লেখপূর্বক সরকারি ৫৬ শতক ভূমি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, খাল ও কৃষি জমি রক্ষায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বারোপ করেছেন। যার ফলে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় অধিকাংশ উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচী শুরু হয়েছে। আমরাও হাজীগঞ্জ উপজেলায় খাল খনন ও দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছি।
ফম/এমএমএ/


