আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস ও সুরমা সুপার পরিবহনের দ্বন্দ্ব, যাত্রীদের দুর্ভোগ

কচুয়া (চাঁদপুর): চাঁদপুরের কচুয়া-গৌরিপুর ঢাকাগমী আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস বাস পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় সুরমা সুপার বাস ও আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস বাস শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়ে র্দীঘ সময় বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে জগতপুর নামে স্থানে সুরমা বাস শ্রমিকরা আল আরাফাহ এক্সপ্রেস বাস বন্ধ করে দেয়। পরে আল-আরাফাহ বাস শ্রমিকরা পাল্টা ওই সড়কের কালিয়াপাড়া নামের স্থানে অন্যান্য পরিবহনের বাস গুলো বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় ৬ ঘন্টা মহাসড়ক বন্ধ থাকায় পথচারীর যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, হাজিগঞ্জ কচুয়া গৌরীপুর সড়কের আল আরাফা এক্সপ্রেস বাসের পারমিট না থাকায় বন্ধ করে দিয়েছে সার্জেন অফিসার। ওই ঘটনার সূত্র ধরে, সুরমা সুপার পরিবহনের হাজিগঞ্জ বাস কাউন্টার ৫০টি অধিক বাস আটকিয়ে রেখেছেন আল আরাফাহ এক্সপ্রেস পরিবহনের শ্রমিকরা। দুই বাস পরিবহনের দ্বন্দ্বে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে শ্রমিকরা বাস বন্ধ করে দেওয়ায় আশপাশ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।

কচুয়া সুরমা বাস কাউন্টারে যাত্রীরা বলেন, হঠাৎ আজকে সুরমা বাস বন্ধ হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা অন্যান্য গাড়িতে ভাড়া দিয়ে ঢাকা যেতে হচ্ছে। এগুলো দেখার কেউ নেই।

চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পদ্মা পরিবহনের বাসের যাত্রীরা জানান, হাজিগঞ্জ-কচুয়া ও গৌরীপুর সড়কের সুরমা ও আল আরাফাহ এক্সপ্রেস পরিবহনের বাস চলাচলের পারমিট নিয়ে দ্বন্দ্ব। চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে কোন সমস্যা নেই, তাহলে এই সড়ক বন্ধ করে দেওয়ার কারণ কি । আমরা বাসটি সড়কে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এগুলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন কি দেখে না।

সুরমা বাসের শ্রমিক ও ড্রাইভার জানান, কচুয়া সাচার ও গৌরীপুর সড়কে আল আরাফাহ বাসের কোন পারমিট নেই। ওদের বাস সার্জন অফিসার বন্ধ করে দিয়েছে। পহেলা মে হাজীগঞ্জ সুরমা বাস কাউন্টারে ৫০টি অধিক বাস আটকে দিয়ে আমাদের শ্রমিকদের উপর নির্যাতন ও মোবাইল টাকা পয়সা নিয়ে যায় আল আরাফাহ এক্সপ্রেস পরিবহনের শ্রমিকরা ও বহিরাগত লোকজন। আমাদের সাথে আল আরাফাহ এক্সপ্রেস পরিবহনের সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই। কেনো আমাদের বাস বন্ধ করে দিয়েছে এবং আমাদের শ্রমিকদের উপর হামলা করেছে এটার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

আল আরাফাহ এক্সপ্রেস পরিবহনের ড্রাইভার ও শ্রমিকা জানান, আমরা দুই বছর ধরে হাজিগঞ্জ কচুয়া সাচার সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে আসছি। হঠাৎ আমাদের বাসগুলো সুরমার মালিকপক্ষ লোকজন বন্ধ করে দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চাই দুই পরিবহনের মালিক পক্ষরা বিষয়টি সমাধান করার জন্য অনুরোধ রইল।

কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, চাঁদপুর কুমিল্লা মহাসড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য চাঁদপুর পুলিশ সুপার মহোদয় হাজিগঞ্জ বাস কাউন্টারে পরিদর্শনে আসছেন। সুরমা ও আল আরাফাহ এক্সপ্রেস পরিবহনের লোকজনের সাথে মধ্যস্থ করছেন। আলোচনা হচ্ছে পরবর্তীতে সড়কে আর সমস্যা সৃষ্টি না হয়।

ফম/এমএমএ/