
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ মাড়কী উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের মাটি কেটে নিয়ে সেখানে পুকুর বানানোর অভিযোগে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী বরাবরে আবেদন করেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহফুজা আকতার।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, মাড়কী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাড়কী মৌজার ১০২নং খতিয়ান ভূক্ত সীমানা ও চৌহদ্দি দেয়া ৩৩ শতাংস ভূমি থেকে গত ২১, ২২ ও ২৩ জুন প্রতিদিন রাতে বেকু দিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মাটি কেটে নিয়ে যায় একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে মো. আবু জাফর, তার ২ ছেলে মাসুদ ও জাহেদুল ইসলাম সুমন।
পরবর্তীতে বিষয়টি আমরা জানতে পেরে বাধা দিই। প্রধান শিক্ষক আরো অভিযোগ করেন, জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে ওই জমিতে পুকুর তৈরি করে আবার অন্য পুকুর থেকে পানি ছেড়ে দেয়, যেনো কেউ মাটি কাটার বিষয়টি বুঝতে না পারে।
প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন ১৯৯১ সালে আবদুল হেকিমের দানকৃত ৩৩ শতাংস ভুমি দেখাইয়া মাড়কী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন লাভ করে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। নতুন ভবন নির্মাণের সময় বর্ণিত স্থানে মালামাল নিতে সমস্যা হওয়ায় তৎকালিন প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাস্তার পাশে ৪ শতাংস জমি ক্রয় করে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়।
ওই সময় বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক করার জন্য আবু জাফরের কাছ থেকে নগদ টাকায় বায়নাপত্র করে ১ শতাংস জায়গা কিনলেও তিনি বিদ্যালয়কে জায়গা রেজিস্ট্রি করে দেই দিচ্ছি বলে টালবাহানা করে। এরই মাঝে বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মাটি কেটে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজা আকতার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি উপজেলা সহকারি শিক্ষা ও ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান পাটওয়ারীকে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
সহকারি শিক্ষা ও ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানীয়াকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে অভিযোগটি সুরাহা করার জন্য।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. মানিক হোসেন প্রধানীয়া বলেন, অভিযুক্ত আবু জাফরকে খবর দিয়ে চেয়ারম্যান অফিসে আনা হয়েছে। তিনি স্কুলের জমিন থেকে কেন মাটি কাটাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। আমি বিষয়টি সমাধান করে দিবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউনেও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুর রহমানকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ফম/এমএমএ/



