কচুয়া (চাঁদপুর): চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামে পূর্বের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় সুমন নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় ওই গ্রামের ইজারা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। আহত সুমন ওই গ্রামের ইজারা বাড়ির মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে।
সুমন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হামলার ঘটনায় আহতের বোন রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রথম আসামী ওই গ্রামের ইজারা বাড়ির শুকুর আলীর ছেলে আব্দুল আউয়ালকে কচুয়া থানা পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
থানার মামলার সূত্রে বাদী রোজিনা আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্বের প্রেমের সম্পর্ক ও মোবাইল ফোনে কথাবার্তা নিয়ে আমাদের
বসত ঘরের সামনে এসে বিবাদী আব্দুল আউয়াল অকথ্য ভাষায় গালি মন্দ শুরু করেন। আমার ভাই তাকে ডাক দিলে বিবাদী আব্দুল আউয়াল, আল আমিন ও ইসমাইল হোসেন আমার ভাইয়ের উপর ক্ষিপ্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা করেন। এক পর্যায়ে আউয়াল হোসেনের হাতে থাকা লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করলে শাবলের ধারালো অংশ আমার ভাইয়ের নাকে পড়ে নাক কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। আমার ভাইয়ের বউ ইতি বেগম এগিয়ে আসলে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন। এবং তার সাথে থাকা স্বর্ণালংকার টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যান।
তিনি মামলাতে আরো উল্লেখ করে বলেন,৩ বছর পূর্বে সুমন মিয়ার প্রেমের সম্পক ছিল বিবাদী আব্দুল আউয়ালের বোন রিতা আক্তারের সাথে । পরবর্তীতে আমার পরিবারের লোকজন প্রেম ভালবাসার সম্পক মেনে না নেওয়ার কারনে বিবাদী আউয়ালের বোন রিতা আক্তার কে বিগত ২ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী হাজীগঞ্জ উপজেলার গরশ্বর গ্ৰামের ইসমাইল হোসেনের সাথে বিবাহ হয়। পরবর্তীতে আমার ভাই সুমন মিয়া অন্যত্রে বিয়ে করে ফেলেন। বিবাদীর বোন রিতা আক্তার ইচ্ছাকৃত আমার ভাইয়ের স্ত্রী ইতি আক্তারের ইমু নাম্বারে ফোন করে আজেবাজে কথা বলে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই নিয়ে বিবাদী আব্দুল আউয়াল, আল আমিন ও ইসমাইল হোসেন আমার ভাইয়ের উপরে হামলা করেন।
বিবাদী আব্দুল আউয়াল মা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে বিরক্ত করে আসছেন সুমন । আমার মেয়ের বিয়ের আগে ও পরে বিভিন্ন অপপ্রচার, প্রবাকাণ্ড ও গুজব ছড়িয়েছে সুমন। সুমন পূর্বে একাধিক বার আমার মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে দেন। এক পর্যায়ে আমরা পারিবারিকভাবে রিতা আক্তারকে অন্যত্রে বিয়ে দিলে পরবর্তীতে ওই রিতা আক্তার জামাইকে বিভিন্ন গুজব ও মিথ্যা কথা, অপপ্রচার চালিয়ে রিতা আক্তার সংসার ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য নানান অশান্তির সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশসহ সুমনকে সতর্ক করা হয়েছে।
ফম/এমএমএ/



