বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ফরম ফিলাপকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

চাঁদপুর: চাঁদপুরে শিক্ষাখাতে অনিয়মের আরেকটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। সদর উপজেলার বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরমফিলাপকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দাবি, নির্ধারিত বোর্ড ফির বাইরে বিভিন্ন খাতের নামে বারবার টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, এসএসসি পরীক্ষার ফরমফিলাপের জন্য তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। অথচ সরকারি নির্ধারিত ফির তুলনায় এই পরিমাণ অর্থ অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে আবারও ‘কেন্দ্র ফি’ নামে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আরো অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। কয়েকদিন আগে ফরম ফিলাপের জন্য ৫০৫০ টাকা দিয়েছি। তখন কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি। এখন আবার ৫০০ টাকা কেন্দ্র ফির নামে দাবি করা হচ্ছে। আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি কেন্দ্র ফি। কিন্তু রশিদ চাইলে জানান, এই টাকার কোনো রশিদ নেই—যা খুবই অস্বাভাবিক।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম. কামরুল হোসেন জানান, ২০২৬ সালে বিদ্যালয় থেকে মোট ১২২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। তিনি স্বীকার করেন যে বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। তবে তার ভাষ্য, বোর্ড ফির পাশাপাশি তিন মাসের কোচিং ফি বাবদ প্রায় ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে সবাই সমান পরিমাণ টাকা দেয়নি।
কেন্দ্র ফির নামে নতুন করে ৫০০ টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি। যদি ফরমফিলাপের সময়ই এই ফি অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত হয়ে থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা এ বিষয়ে অজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ফরমফিলাপের পর কেন্দ্র ফির নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরমপূরণ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বোর্ড ফি ১৯২০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ৫১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের জন্য বোর্ড ফি ১৮৩০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ৪৮৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন অনিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম