দুরারোগ্য ব্যাধি ও অভাবের তাড়নায় অসহায় দম্পতি

সাহায্যের অপেক্ষায় মনোয়ারা- হুমায়ন

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

কচুয়া (চাঁদপুর): ​বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার কথা ছিল যাদের, অথচ সেই বয়সে এসে জীবন বাঁচানোর এক কঠিন লড়াই করছেন মনোয়ারা বেগম (৬০) ও তার স্বামী হুমায়ন কবির (৭০)। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর চরম দারিদ্র্যের কষাঘাতে তাদের জীবন এখন থমকে দাঁড়িয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তিই এখন তাদের জীবিকার একমাত্র পথ, তাও আবার প্রতিদিন জোটে না দুমুঠো অন্ন। দিনভর মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে চলে তাদের সংসার। যেদিন ভিক্ষা মেলে না, সেদিন অভুক্ত থাকতে হয় এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে। এই অমানবিক পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মনোয়ারা বেগম।

জানা যায়, ​কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের উত্তর ডুমুরিয়া গ্রামের নতুন বাড়িতে মাত্র ৩ শতক জমির ওপর জরাজীর্ণ বসতঘরে দিন কাটছে তাদের । ১৯৮৮ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই দম্পতি। সংসারে তিন কন্যা থাকলেও, তারা প্রত্যেকেই বিবাহিত এবং নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। বয়সের এই শেষ সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো ছেলে সন্তানও নেই। মনোয়ারা বেগম ১৯৯৮ সালে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। ২০০৬ সালে তার স্বামী হুমায়ন কবির যিনি চট্টগ্রামের একজন শ্রমিক ছিলেন তিনিও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। অভাবের সংসারের চাকা সচল রাখতে মনোয়ারা বেগম এক সময় অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বর্তমানে অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে তিনিও আর পেরে উঠছেন না।

স্থানীয়রা জানান, এই দম্পতি বর্তমানে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের চিকিৎসাসেবা ও নিত্যদিনের খাবারের নিশ্চয়তা দিতে বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান।

অসহায় মনোয়ারা বেগম বলেন, স্বামীর যখন রুজি করছে তখন ভালা খাইছি, এখন রুজি করতে পারে না ভালো খাইতে পারি না। এখন আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য চাই। কোনদিন খেয়েছি আবার কোনদিন না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি । আপনাদের কাছে সাহায্য চাইছি আপনারা কিছু সাহায্য করেন। এই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মনোয়ারা বেগম।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেন, মনোয়ারা বেগম ও হুমায়ন কবির দম্পতির করুণ পরিস্থিতির বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে অবগত হলাম। একজন সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে আমি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। আমি দ্রুতই একজন সমাজকর্মী পাঠিয়ে ওই দম্পতির বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও জীবনমান সরেজমিনে তদন্ত করে দেখব। যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি যেসব সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি রয়েছে, তার আওতায় তাদের দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ফম/এমএমএ/

মো. রাছেল | ফোকাস মোহনা.কম