চাঁদপুর : চাঁদপুরের কচুয়ায় বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে অভিনব কায়দায় ঘরে ঢুকে খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সর্বস্ব লুটের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর তাঁতীবাজার থেকে চুরি যাওয়া ৩ ভরি ১ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কচুয়া থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুন কচুয়া পৌর এলাকার ওয়ালটন প্লাজার পাশের একটি ভবনে বসবাসকারী করইশ গ্রামের মৃত ডাক্তার ফজর আলীর ছেলে মোহাম্মাদ নুরুল ইসলামের বাসায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা কৌশলে গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলার সময় খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে ঘরের আলমারি থেকে ৬ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার এবং ড্রয়ারে থাকা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি।
পুলিশের তথ্যমতে, চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ১৩ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কচুয়া থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কচুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ রাশেদুল হক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুবেল সরকার ও এসআই রুহুল আমিনের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালায় পুলিশের বিশেষ টিম। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে কুমিল্লার হোমনা থানার নিকলি ইউনিয়নের মৃত আকবর আলীর ছেলে মো. ইব্রাহিম (৫০) এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই এলাকার মহর মিয়ার ছেলে মো. বিল্লাল হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় তারা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা কোতোয়ালি থানার তাঁতীবাজার এলাকায় একটি স্বর্ণের দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে চুরি যাওয়া ৩ ভরি ১ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফম/এমএমএ/রাছেল/



