ত্যাগের মহিমায় হাজীগঞ্জে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): ত্যাগের মহিমায় সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পালিত হয়েছে মুসলিমদের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদের জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কুরবানি করেছেন।

ঈদ মানেই আনন্দ। এ আনন্দ ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে সর্বজনীন করার বার্তা দিয়েছেন মহান সৃষ্টিকর্তা। আর ঈদুল আজহা মানেই ত্যাগের উৎসর্গ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি করে তার মনের পরিশুদ্ধিতা অর্জন করবেন।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাতে তারা ওই পশুদের জবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। আর তোমাদের প্রতিপালক তো এক আল্লাহই, তোমরা তারই অনুগত হও।

সোমবার (১৭ জুন) সকালে ঈদগাহে গিয়ে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মাধ্যমে ঈদ উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় শুরু করেন। বেলা ১০টা পর্যন্ত চলে ঈদের জামাত। নামাজ আদায় করে হাসিমুখে কোলাকুলি ও করমর্দনের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি করেন।

ইবাদতের মারকাজ খ্যাত হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সে ঈদুল আযহার ৩টি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রথম জামাত হয়েছে সকাল সাড়ে ৬ টায়। এতে ইমামতি করেছেন, মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।

ঈদের দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮ টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইমামতি করেছেন, মসজিদের সহকারী ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. আনাছ।

এবং শেষ জামাত সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, ইমামতি করেন, সহকারী ইমাম মুফতি মো. এমদাদ উল্যাহ্।

প্রত্যেক জামায়াতে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভীড় ছিলো। বিশেষ করে সকাল সাড়ে ৬টার জামায়াতে মসজিদের নিচতলা, দ্বিতীয় তলা ও মাঠ পর্যন্ত মুসল্লিদের কাতার ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম জামায়াতে নামাজ পড়তে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ফজর পড়ে জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে আসতে শুরু করে সাড়ে ৫টার মধ্যেই মসজিদের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলা কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ৬টায় বয়ান শুরু করেন মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।

প্রতিটি জামাতে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে ফিলিস্তিনসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ, দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এ ছাড়াও হযরত মাদ্দা খাহ মসজিদ ও মাঝার শরীফে ঈদুল আযহার জামায়াত অনুষ্ঠিত সকাল ৮টায়, বায়তুল আমান জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদুল আযহার জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের নামাজকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহণ করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। সকাল থেকে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সম্মুখে পুলিশের সতর্ক উপস্থিতি দেখা গেছে।

ফম/এমএমএ/

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম