চাঁদপুর: চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি বাতিল করে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি নিয়োগের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন বলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর দেওয়া ‘Lawyer Certificate’-এ উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিটটির শুনানি হয়।
রাতেই এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আল-আমিন সোসাইটির সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমরান হোসেন স্বাক্ষরিত আইনজীবী সনদে বলা হয়েছে, Writ Petition No. 13791 of 2026-এর শুনানি শেষে আদালত কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের একটি চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন।
ওই চিঠির মাধ্যমে আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিদ্যমান গভর্নিং বডি বাতিল করে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল।
নথি অনুযায়ী, রিটে মো. মোবারক হোসাইন আবেদনকারী এবং বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবাদী। ২০ সেপ্টেম্বরের কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি দায়ের করা হয়। পাশাপাশি আল-আমিন সোসাইটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত গভর্নিং বডি বহাল রাখার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশের পর রোববারই আল-আমিন সোসাইটির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি দেন। সেখানে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের অবগতির জন্য আদালতের আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ২০ সেপ্টেম্বরের স্মারকের মাধ্যমে আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি বাতিল এবং অ্যাডহক কমিটি গঠনের যে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছিল, হাইকোর্টের আদেশে তার কার্যকারিতা স্থগিত হয়েছে।
আইনজীবীর সনদে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডের ওই চিঠিতে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিষ্ঠানের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি নিয়োগ এবং বিদ্যমান গভর্নিং বডি বাতিলের কথা বলা হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কাঠামো নিয়ে চলমান বিরোধে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ, পরবর্তী শুনানি এবং রুলের নিষ্পত্তির ওপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি অবস্থান নির্ভর করবে।
চাঁদপুরের দীর্ঘদিনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি জ্ঞানভিত্তিক, নৈতিক ও মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছে।
এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন প্রকাশিত নথিতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৯৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে গভর্নিং বডি বাতিল ও নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরে যে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে তা আপাতত নতুন মোড় নিয়েছে। এখন পরবর্তী শুনানি ও রুলের নিষ্পত্তির দিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক এডহক কমিটি গঠন এবং সোসাইটি কর্তৃক পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের প্রতিবাদে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সোসাইটির কর্মকর্তারা। সেখানে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবদান ও ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
ফম/এমএমএ/


