চাঁদপুরে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ১৯ বছর পূর্তি উদযাপন

চাঁদপুর : চাঁদপুরে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ১৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাসনীম জোহরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাসনীম জোহরা বলেন, বিচার বিভাগ জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা লাভের শেষ আশ্রয়স্থল। বিচারপ্রার্থীদের আস্থার জায়গা হিসেবে বিচার বিভাগকে প্রতিষ্ঠিত করতে বিচারক ও আইনজীবীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব নয়। জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে নির্বাহী বিভাগ থেকে ম্যাজিস্ট্রেসি পৃথকীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক।

আলোচনা সভায় বিচারকদের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. কামাল হোসেন, যুগ্ম জেলা জজ সামিউল আলম ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম মন্টু, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব ও অ্যাডভোকেট এটিএম মোস্তফা কামাল।

বক্তারা বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ আন্দোলনে আইনজীবী সমাজের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা ছিল দেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের নির্দেশনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

আলোচনায় বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার ভূমিকা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ এ মামলায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথকীকরণ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর থেকে দেশের অধস্তন বিচার বিভাগ ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেসি নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির পৃথক কাঠামো কার্যকর হয় এবং বিচার বিভাগের ইতিহাসে সূচিত হয় নতুন অধ্যায়।

বক্তারা আরও বলেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন ছিল না; এটি আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিচারপ্রার্থীদের আস্থা অর্জন এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান ও সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ আইনজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম