হাটিলা পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ!

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সপ্তাহে দুদিন অফিস করেন, তাও নিজের ইচ্ছে খুশি মতো। সপ্তাহে যে ক’দিন অনুপস্থিত থাকেন, সে’কদিন তার পছন্দের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২’কে দায়িত্ব পালন করিয়ে থাকেন।

এতে গুরুত্বপূর্ণ ও সবধরনের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের … গ্রামের সাধারণ মানুষ। এতে প্যানেল চেয়ারম্যান-১সহ ইউপি সদস্য ও সেবা গ্রহিতাসহ স্থানীয় এবং এলাকার লোকজন ক্ষুদ্ধ। এদিকে, সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত থাকলেও বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রোববার ও সোমবার (১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান একেএম মজিবুর রহমান। তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলছে।

পরে তাঁকে ফোন দিলে তিনি জানান, দলীয় একটি প্রোগ্রামে রয়েছেন। পরবর্তীতে সংবাদকর্মীরা ওই প্রোগ্রামে গিয়ে তাঁর সাথে কথা বলেন। ওই সময়ে একেএম মজিবুর রহমান জানান, তিনি শারিরিকভাবে অসুস্থ। তাই, অফিস করতে পারেননি এবং ছুটি না নেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেন।

নিয়মিত অফিসে করেন না, এমন প্রশে^র জবাবে তিনি জানান, যখন কাজ থাকে তখন পরিষদে আসেন এবং কাজ না থাকলে আসেন না। প্যানেল চেয়ারম্যান-২ এর দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর মতো প্যানেল চেয়ারম্যান-১ অসুস্থ। তাই রেজুলেশন করে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যানের নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবাসহ জন্ম-নিবন্ধন, নাগরিক ও জাতীয়তা সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী। ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।

এছাড়া বিদেশগামীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ক্ষুদ্ধ হচ্ছেন, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ সহ ইউপি সদস্যরা ও ইউনিয়নের লোকজন। যার প্রমাণও পাওয়া গেছে। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে ওই দলীয় প্রোগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান একেএম মজিবুর রহমান বক্তব্য দিতে গেলে উপস্থিত একাধিক ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা হট্টগোল শুরু করেন।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. রফিকুল ইসলাম মিয়াজীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, চেয়ারম্যান সাহেব সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন অফিস করেন। আবার মাঝে মাঝে পুরো সপ্তাহেও থাকেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যানগণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

এ বিষয়ে ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. রবিউল হোসেন বলেন, তিনি (ইউপি চেয়ারম্যান) নিয়মিত পরিষদে আসেন না। যার ফলে সেবা থেকে বঞ্চিত ইউনিয়নের লোকজন। আমরা মেম্বাররা ওনাকে বার বার বলেছি, তারপরও তিনি নিজ ইচ্ছে ও খেয়ালখুশি মতো পরিষদে আসেন, আবার চলে যান।

তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব ছুটিতে থাকলে নিয়ম অনুযায়ী আমি দায়িত্ব পালন করবো। কিন্তু ওনি টানা ২/৩ দিন পরিষদে অনুপস্থিত থাকেন। তাই, ওনার অনিয়মের দায়িত্বভার-তো আমি নিতে পারিনা। এ জন্য তিনি আমাকে অসুস্থ বলছেন এবং প্যানেল চেয়ারম্যান-২ কে দিয়ে দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন।

চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করে ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ মো. দুলাল হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে রেজুলেশন করে দায়িত্ব দিয়েছেন, তাই আমি দায়িত্ব পালন করছি। আপনারা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন, তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন।

ফম/এমএমএ/

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম