
চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহবুব আনোয়ার বাবলুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বাদ আসর চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে মরহুম মাহবুব আনোয়ার বাবলুর জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাযার নামাজ শেষে মরহুমকে চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ মো. অলি উল্লাহ।
দীর্ঘ দিনের সহযোদ্ধাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, অনেক সময় বাবলু ভাইয়ের সঙ্গে কাটিয়েছি। কিন্তু শেষবার তাঁর কাছে ক্ষমাটুকুও চাইতে পারিনি। তিনি অসুস্থ হলে মাঝে-মধ্যেই তাঁকে বলতাম, ঢাকায় যান, চিকিৎসা নেন। ধূমপান করতেন বলেও তাঁকে বারবার নিষেধ করতাম। রাগ করে অনেক সময় ১৫-২০ দিন কথাও বলতাম না। কিন্তু সেই বাবলু ভাই আজ আমাদের মাঝে নেই।
তিনি আরো বলেন, বাবলু ভাইয়ের চলে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। ২০০৯ সালের পর থেকে চাঁদপুরজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সবাইকে ফোন করে যোগাযোগ রাখতেন, নেতাকর্মীদের একত্রিত করতেন এবং সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখার চেষ্টা করতেন।
এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক আরও বলেন, আমি এখানে স্মৃতিচারণ করতে চাই না। এখানে উপস্থিত সবাই তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন। চলার পথে মানুষের অনেক ভুল-ভ্রান্তি হয়। আমাদের পক্ষে-বিপক্ষে অনেকেরই সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি বাবলু ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। তিনি সব সময় অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। যেখান দিয়ে হাঁটতেন, মাথা নিচু করেই হাঁটতেন।
তিনি বলেন, বাবলু ভাইয়ের এক সন্তান আমাদের মাঝে রয়েছে। সবার কাছে আমার অনুরোধ, তাঁর কাছে যদি কারও কোনো পাওনা-দেনা থেকে থাকে, তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমরা দলগতভাবে বিষয়টি দেখব। আর সবাই বাবলু ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন।
চাঁদপুর জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামানের পরিচালনায় জানাযার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মো. মমিনুল হক, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্ল্যাহ সেলিম, জেলা জামায়াত ইসলামের আমির আলহাজ বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, পৌর বিএনপি সভাপতি মো. আক্তার হোসেন মাঝি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম প্রমুখ।
মরহুম মাহবুব আনোয়ার বাবলু একমাত্র ছেলে মো. কুন্তল খান।
মরহুম মাহবুব আনোয়ার বাবলু জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সফিউদ্দিন আহমেদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাড. শাহাজাহান খান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন খান বাবুল, খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, ডি এম শাহাজাহান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিমুছ সালাম, অ্যাড. জহির উদ্দিন বাবর, অ্যাড. হারুনুর রশীদ, আফজাল হোসেন বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মুনির চৌধুরী, আলহাজ মোশাররফ হোসাইন, অ্যাড. সামছুল ইসলাম মন্টু, দপ্তর সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, প্রচার সম্পাদক শরীফ উদ্দিন পলাশসহ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও দলীয় সকল নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, মরহুম মাহবুব আনোয়ার বাবলু ২৫ জুলাই দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহে…ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ১ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজনরা ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
মাহবুব আনোয়ার বাবলু বর্তমান চাঁদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি দায়িত্বে ছিলেন। এছকড়াও তিনি জেলা বিএনপি দপ্তর সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কবি ও সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
ফম/এমএমএ/



