মিন্নত আলীর ক্ষোভ পরস্পরের মমত্ববোধ নেই

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম
চাঁদপুর: মিন্নত আলী বেপারী। বয়স ৭৮। চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুরের বাসিন্দা হলেও মেঘনার একাধিক ভাঙনের শিকার হয়ে তিনি এখন বসত গড়েছেন পাশবর্তী ইউনিয়ন হানারচর ইউনিয়নের গোবিন্দিয়া গ্রামে। হরিণা ফেরিঘাটের পুরনো ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু নদী গর্ভে বিলিন হয়েগেছে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গত ২০ বছর সকালে কয়েক ঘন্টার জন্য রুটি বানিয়ে বিক্রি করেন। এই দিয়ে চলে স্বামী-স্ত্রী দুজনের সংসার। সবকিছু হারিয়ে গেলেও কোন অভিযোগ নেই তার। কিন্তু পরস্পরের মধ্যে মমত্ববোধ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, এখন বিপদে পড়লে কারো কোন সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি চাঁদপুর-শরীয়তপুর রুটের হরিণা ফেরিঘাট ইলিশের পাইকারী আড়তের পাশে রুটি বিক্রি করতে দেখা যায় মিন্নত আলীকে। এই বয়সে কেন তিনি রুটি বিক্রি করেন এমন প্রশ্নের জবাবে দিতে গিয়ে বর্ননা করেন তার জীবনের ঘটনার কিছু অংশ।

মিন্নত আলী বলেন, আমার কোন সন্তান নেই। স্ত্রী আর আমি একটি ঘরে থাকি। সরকারের পক্ষ থেকে বয়স্ক ভাতাও পাই। কিন্তু ৫০০টাকা ভাতা দিয়ে কি সংসার চলে। যে কারণে গত ২০ বছর এই ঘাটে রুটি বিক্রি করি। এখন প্রতিদিন রুটি ও গুড় বিক্রি হয় ২৫০-৩০০টাকা। এক রুটি ও দুই টুকরো গুড় দাম ১০টাকা। যা লাভ হয়, তা দিয়ে সংসার চলে। ময়দা প্রতি কেজি ৭৫টাকা এবং গুড় ক্রয় করি প্রতি কেজি ১৫০টাকা।

তিনি বলেন, আমার যারা ক্রেতা, তারা অধিকাংশ স্থানীয় বাসিন্দা। ঘাটে বাহিরের লোকজন এখন কম আসে। কারণ ফেরিতে যানবাহন কম পার হয়। তেল ছাড়া ঘরের তৈরী রুটির স্বাদ নিতে অনেকেই আসেন। লাকড়ি চুলায় তৈরী হয় রুটি। বেশী সময় বসে থাকতে পারি না। ফজরের নামাজের পরে আসি। সকাল ৯টার মধ্যে বাড়িতে চলে যাই। বাকী সময় ইবাদত করে কাটাই।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি। কিন্তু সমাজের পরিবর্তন দেখে মন ভালো থাকে না। কারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্ক যেন কেমন হয়েগেছে। অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা কোন কারণে অর্থ সংকটে পড়লে কেউ সহযোগিতা করতে চায় না। সহযোগিতা না করুক, কোন ধরনের সহমর্মিতাও দেখায় না। কিন্তু ছোট বেলায় আমাদের সমাজে এমন পরিস্থিতি দেখিনি। এই সমাজকে সুন্দর করতে হলে আমাদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ও মমত্ববোধ বাড়াতে হবে।

মিন্নত আলীর সামনে বসে রুটি ও গুড় খাচ্ছেলিনে প্রবীন মৎস্য ব্যবসায়ী মো. সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল। তিনিও এই ঘাটে ব্যবসা করেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে। তিনি বলেন, মিন্নত আলী এই ঘাটের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু মেঘনার ভাঙনে সব হারিয়েছেন। কিন্তু তিনি কারো কাছে হাত পাতেন না। রুটি বিক্রি করেই চলে তার সংসার। বয়স্ক পাতা পান ৫০০টাকা। সেখান থেকেও জনপ্রতিনিধিরা ৩০টাকা কেটে নেয়। আমাদের সমাজে শুধুমাত্র স্বার্থপরতা ছাড়া আর কিছুই নেই।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম