হাজীগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে এলাকাবাসীর উপর হামলার অভিযোগ

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে এলাকাবাসীর উপর হামলা ও মারধর করে উল্টো তাদের উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সুহিলপুর গ্রামের ফরহাদ মজুদারের বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ করেন, স্থানীয় ও এলাকাবাসী।

তারা জানান, আনুমানিক দেড় বছর পূর্বে অভিযুক্ত ফরহাদের ছোট ভাই বাছির মজুমদার প্রেম করে ওই এলাকার শাহপরান গাজীর ভাগ্নিকে ফাহিমাকে বিয়ে করেন। একই বাড়িতে শাহপরান গাজীর অপর এক বোন হালিমাকে বিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখিত ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় সময় ফাহিমা ও হালিমা হামলা ও মারধর করেন ফরহাদ।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার তাদেরকে মারধর করলে ওই দিন সন্ধ্যায় সুহিলপুর পশ্চিমপাড়া দোকানের সামনে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ফরহাদ মজুমদারের কাছে মারধরের কারণ জানতে চান শাহপরান গাজী। বিষয়টি নিয়ে তাদের মাঝে তর্ক-বিতর্ক হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফরহাদ এদিন রাতেই তার নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক কিশোর-যুবক ওই এলাকায় এসে অতর্কিত হামলা ও শাহপরান গাজীসহ দোকানের সামনে যাকে পেয়েছেন, তাকেই মারধর করেছেন।

পরের দিন আবার তারা শাহপরান গাজীর এক আত্মীয়কে মারধর করেন এবং রাতেই বসতঘর ভাংচুরের অভিযোগ এনে ফেসবুকে বিএনপি নেতা শামছুল হক গাজী, যুবনেতা সাখাওয়াত হোসেন, মামুন গাজী, মাহবুব আলম খোকন সহ’ এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

ওই এলাকার শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে শামছুল হক গাজী, দ্বীন ইসলাম গাজী, হেলাল খাঁন, হোসেন গাজী, আব্দুর রহমান, মান্নান হাজী’সহ স্থানীয় বয়ো-বৃদ্ধরা জানান, ফরহাদ মজুমদার ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত। গত ৫ আগস্টের পর সে বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে সাথে জড়িয়ে পড়ে।

তারা বলেন, সবশেষ পারিবারিক ঘটনার জের ধরে ফরহাদ ফেসবুকে লাইভ এসে এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি যেন বিষয়টির প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্তপূর্বক ফরহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ওই ইউনিয়নের ৩ ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক গাজী অভিযোগ করে বলেন, ফরহাদের বয়সের ছেয়ে আমাদের রাজনীতির বয়স অনেক বেশি। অথচ আমি ও সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ’সহ এলাকার মানুষকে সে জিম্মি করতে চায়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার মাধ্যমে ফরহাদ ছাত্র রাজনীতিতে এসেছে। সে আমার স্নেহের ছোট ছাই। সে একটুও দ্বিধাবোধ করেনি যে, উল্লেখিত ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে পর্যন্ত মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। অথচ, ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না।

এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ফরহাদ মজুমদার বলেন, আমি বক্তব্য দিতে নারাজ। যেহেতু আমি একটি সংগঠনের সাথে জড়িত। সেহেতু, বিষয়টি এমপি মহোদয়’সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দেখছেন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম