বিজ্ঞান মেলা নয়, যেন কপি মেলা!

লেখক রাসেল ইব্রাহীম।

।। রাসেল ইব্রাহীম ।। নকল প্রজেক্ট নিয়ে শিক্ষার্থীরা আজ বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিচ্ছে—দেখে মনে হয়, এটি যেন ‘কপি মেলা’। অথচ বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান, যেখানে সৃষ্টিশীলতা, কৌতূহল এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের প্রতিযোগিতা থাকার কথা। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে; দেশ পাবে নতুন বিজ্ঞানী, সমৃদ্ধ হবে দেশের জ্ঞানভাণ্ডার।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি করা এবং মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু উপজেলা ও জেলা ভিত্তিক বিজ্ঞান মেলাগুলো আজ সেই লক্ষ্য কতটুকু পূরণ করতে পারছে—তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

বর্তমানে প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নানা ধরনের প্রজেক্ট নিয়ে অংশ নেয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো-অনেকেই প্রজেক্ট কিনে নেয় অনলাইন থেকে, কেউ নেয় পরিচিত সিনিয়র বা তথাকথিত ‘এক্সপার্ট’ কপিবাজদের কাছ থেকে, আবার কেউ বানায় ইউটিউব দেখে হুবহু অনুকরণ করে। অর্থাৎ পুরনো ও প্রচলিত আইডিয়াগুলোকেই নতুন বলে উপস্থাপন করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব প্রজেক্টের জন্য পুরস্কারও দেওয়া হয়।

ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টিশীলতার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তারা নতুন কিছু ভাবার পরিবর্তে সহজ পথ বেছে নিচ্ছে—কপি করা। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আমরা বিজ্ঞানী নয়, বরং কপিবাজ একটি প্রজন্ম তৈরি করবো। এতে করে বাংলাদেশ প্রযুক্তির বিশ্ব প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়বে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সরকার, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এবং শিক্ষামন্ত্রণালয়ের উচিত কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা এবং সৃজনশীল প্রজেক্টকে উৎসাহিত করা।একইসাথে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বিজ্ঞান ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা বাধ্যতামূলক করা উচিত। যেন শিক্ষার্থীরা স্কুল জীবন থেকেই গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আবিষ্কারের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানকে শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার চর্চাই পারে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্যিকারের উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তুলতে।

লিখেছেন: রাসেল ইব্রাহীম, শিক্ষক ও গীতিকার, চাঁদপুর।

ফোকাস মোহনা.কম