বাগড়া বাজারে প্রতারণা করে লিখে নেয়া সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ

চাঁদপুর : চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগড়া বাজারে প্রতারণা করে লিখে নেয়া সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধকৃত সম্পত্তি নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা হয়েছে। তবে সর্বশেষ এক পক্ষ জোরপূর্বক বিরোধ সম্পত্তি থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিনে প্রতিপক্ষ সালাম আহমেদ ও রেখা বিরোধকৃত সম্পত্তি দখল করার জন্য ৫০ থেকে ৬০জন লোক নিয়ে ঝড়ো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ওই দোকান দখলে নিতে পারেনি বলে আরেক পক্ষের লোকজন জানায়।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের আ. হালীম গাজীর স্ত্রী পৈত্রিক সূত্রে তিনটি দাগে সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সাপদী ও বাগড়া বাজারে ৫৮ শতাংশ জামির মালিক হন। হালীম গাজীর স্ত্রীর মৃত্যুর পরে ওই সম্পত্তির মালিক হন তাঁর ৪ ছেলে ও দুই মেয়ে।

বর্তমান এই সম্পত্তির মালিক হচ্ছন-হালীম গাজীর ছেলে ফারুক গাজী, মজিব গাজী, নাজিম গাজী, শামীম গাজী, মমতাজ ও সুফিয়া।

মজিব গাজী বলেন, তার বোন মমতাজ বেগম এর মেয়ে রেখা ও তার স্বামী সালাম বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে ২০১৪ সালে ৫৮ শতাংশ জমির পাওয়ার অব অ্যাটার্নি নিয়ে নেন সালাম আহমেদ ও আবুল বারাকাত নামে এক আত্মীয়ের নামে। এরপর তিন দাগের উল্লেখিত ৫৮ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশ বিক্রি করে দেয়। আর বাকি ৩০শতাংশ আছে এবং ৩শতাংশ সালাম তার স্ত্রী রেখার নামে লিখে দেয়। বর্তমানে এই তিন শতাংশের মধ্যে রাস্তার জায়গা বাদ দিয়ে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ।

মজিব গাজী আরো বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাগড়া বাজারের দোকান থেকে তার দখল ছেড়ে চলে যায়। যে কারণে আমরা ওই দোকান ভাড়া দেই। এখনো ভাড়াটিয়া রয়েছে। কিন্তু আমাদের সম্পর্কে ভাগ্নি রেখা আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এডিএম কোর্টে মামলা করে। ওই মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় রেখা (বাদী) নিজেই ওই সম্পত্তি দখলে আছেন। এই তথ্যও সঠিক নয়। আবার সে এখন লোকবল নিয়ে দোকান দখল করতে আসছে। বিষয়টি অনেকটা সাংঘর্ষিক এবং মিথ্যার আশ্রয়।

মুজিব গাজীর অভিযোগ বলেন, মূলত আমরা যারা প্রকৃতপক্ষ ৫৮শতাংশ জমির মালিক, তারা সকলে মিলে সালাম ও বারাকাতের নামে ফ্যাসিস্ট আমলে জোরপূর্বক নেয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল করার জন্য চাঁদপুর ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট মামলা করেছি। মামলাটি চলমান। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা আদালতের কাছে সঠিক বিচার দাবী করছি।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম