ফরিদগঞ্জে হাত পা বাঁধা ব্যাক্তিকে উদ্ধার, স্ত্রী-সন্তানেরা আটক

ছবি: সংগ্রহীত।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মনোয়ার হোসেন ওরফে মনা (৫৫) নামের এক অভিভাবককে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নিজের ঘর থেকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ পুলিশ।

শনিবার (৯ আগস্ট) রাত ১২টায় ফরিদগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব বড়ালী গ্রামের পালের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

রোববার (১০ আগস্ট) সকালে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে।

‎প্রতিবেশী ইমাম হোসেন নান্টু, শাহাদাত হোসেন ও ফিরোজ আলম জানান, একটি অটোরিকশা কেনাবেচা নিয়ে মনোয়ার হোসেনের মেজ ছেলে জুয়েল, বড় মেয়ে প্রিয়া ও ছোট মেয়ে রিয়া এবং স্ত্রী তাসলিমা বেগম মিলে মনোয়ার হোসেনকে হাত-পা বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে মেয়েরা বালিশচাপা দিয়ে তাঁকে মারার চেষ্টা করেন।

এ সময় তাঁর ডাকচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় রাতে তাঁকে তাঁর নিজের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম, মেজ ছেলে জুয়েল হোসেন, বড় মেয়ে প্রিয়া ও ছোট মেয়ে রিয়া আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

‎মনোয়ার হোসেন পুলিশকে জানান, তিনি স্থানীয় ব্র্যাক এনজিও থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনেছেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা ওই অটোরিকশা ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি করে ফেলেন। এ নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলে তাঁকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। পরে ডাকচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ্ আলম এই বিষয়ে বলেন, মনোয়ার হোসেন তিন ছেলেসহ পাঁচ সন্তানের জনক। তাঁদের মধ্যে দুই ছেলে বিদেশে থাকেন। অন্য ছেলেমেয়েরা ও স্ত্রীর সঙ্গে ঘটনার দিন পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়।

ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পারি পারিবারিকভাবে একটি অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে আমরা এই ঘটনায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে আটক করেছি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম