হাইমচর মেঘনায় চিংড়ির রেণু শিকার করায় ৭ জেলের অর্থদন্ড

ছবি: সংগ্রহীত।

হাইমচর (চাঁদপুর): চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ জালে চিংড়ির রেণু পোনা শিকারের দায়ে সাতক্ষীরা ও যশোর থেকে আসা সাত জেলেকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার গাজীপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের এক হাজার টাকা করে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে জরিমানা কম করায়  স্থানীয় বাসিন্দরা ক্ষোভ প্রকাশ করে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে,  উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ আহমেদের নেতৃত্বে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রেণু পোনা ধরার সরঞ্জামসহ সাত জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নিকারি পাড়া গ্রামের জোহর আলী (৫৭), কাশেশ আলী নিকারি (৫৫), ইউনুস আলী (৪৫), মুকুল নিকারি (৩০), মিজান নিকারি (৩৪), আলাউদ্দিন বিশ্বাস (১৯) এবং যশোরের কেশবপুর এলাকার রাজু আহম্মেদ (২৫)।

অভিযানে অংশ নেওয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ বি এম আশরাফুল হক বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই রেনু পোনা ধরা, সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের ধরতে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে।

দেখা যায়, বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরুতে হাইমচরের গাজীপুর, নীলকমল, কাটাখালী, চরভৈরবী এলাকায় রেণু পোনা ধরার ধুম পড়ে। সাতক্ষীরা ও যশোর অঞ্চল থেকে কয়েক শত জেলে এই সময়ে চাঁদপুরে এসে আস্তানা গেড়েন। স্থানীয় বেশ কয়েকটি অসাধু চক্র এই বহিরাগত জেলেদের থাকা-খাওয়া ও আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে নদী থেকে রেণু পাচার করছে দক্ষিণাঞ্চলের ঘেরগুলোতে।

পরিবেশবিদদের মতে, একটি চিংড়ি রেণু ধরতে গিয়ে জালে আটকা পড়ে আরও কয়েকশ প্রজাতির মাছের পোনা ও জলজ চারা। এতে নদীর জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কথা বলা হলেও রাতের আঁধারে হরদম চলছে এই ধ্বংসযজ্ঞ।

ফম/এমএমএ/

মো. মহসিন মিয়া | ফোকাস মোহনা.কম