মতলবের লাভলু হত্যার তিন বছরেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি

মো. ছলিম উল্লাহ (লাভলু)। ছবি: সংগ্রহীত।

চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেহপুর পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ২০১৮ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ছলিম উল্লাহ (লাভলু) হত্যার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল না হওয়ায় মামলাটি কার্যত অচল হয়ে আছে।

সমপ্রতি নিহতের ছেলে মো. লাবিব আরেফিন প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে অভিযোগ করেছেন, বাবার হত্যায় জড়িতরা এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পদ-পদবি পাওয়ার জন্য লবিং করছে।

লাবিব আরেফিন লেখেন, “আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ও তাদের মদদে, ভোটবিহীন জনপ্রতিনিধিদের ঘনিষ্ঠ এবং বর্তমানে বিএনপি পরিচয় দেওয়া সন্ত্রাসীরা ২০২২ সালের ২ নভেম্বর রাতে আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই খুনিরা এবং তাদের পরিবারের কিছু সদস্য এখন বিএনপির পদ-পদবি পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে। তারা যদি পদে আসে, তাহলে আমি এবং এলাকার অন্যান্য বিএনপি পরিবারের সদস্যরা লজ্জিত হবো।”

তিনি আরো লেখেন, “খুনি ও চাঁদাবাজ পরিবার বাদে এই ইউনিয়নে শত শত সৎ ও ভালো পরিবারের সদস্য আছে। খুনিদের পদ-পদবি, মিছিল-মিটিংয়ে সুযোগ দিলে বিএনপির ভাবমূর্তি কলুষিত হবে।”

নিহতের ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর-২ আসনের নেতা আলহাজ্ব ড. মুহাম্মদ জালাল উদ্দিনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

২০২২ সালের ২ নভেম্বর সকালে ফতেহপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মান্দাতলী গ্রামের ইটের রাস্তার পাশে লাভলুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের আমির হোসেন মাস্টারের ছেলে ছিলেন। হত্যার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিচার দাবিতে একাধিক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু দীর্ঘ তিন বছরেও মামলার চার্জশিট আদালতে জমা হয়নি। এতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় নিহত পরিবারের ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ হত্যায় জড়িতদের রাজনৈতিক ছত্রছায়া দেওয়া হচ্ছে, আর তারা এখন বিএনপির পদ-পদবি পাওয়ার জন্য সক্রিয় হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক (পিবিআই) মোঃ শাহজাহান বলেন, এই মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য কিছু এখনো বের করা সম্ভব হয়নি।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম