
মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থী ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঘড়িহানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে। বর্তমানে তারা বালিথুবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।
মায়মুনা ও মুনতাহা শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ও গৃহিণী নাছিমা আক্তারের কন্যা। দুই মেয়ের এই যুগপৎ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, বিদ্যালয় এবং আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই দুই বোনের পড়াশোনার প্রতি ছিল গভীর আগ্রহ। তারা নিয়মিত অধ্যয়ন করত, একে অপরকে পড়াশোনায় সহযোগিতা করত এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করত। পরিবারের সার্বক্ষণিক উৎসাহ, সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনাই তাদের এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।
দুই কন্যার এমন অর্জনে আবেগাপ্লুত বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, এটি মহান আল্লাহর অশেষ রহমত। আমরা চাই, মেয়েরা ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত, সুনাগরিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। তারা যেন দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে-এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
ঘড়িহানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাংবাদিক ইকবাল হোসেন বলেন, একই পরিবারের জমজ দুই বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন সত্যিই বিরল ও গর্বের বিষয়। তাদের এই অর্জন শুধু পরিবারের নয়, পুরো ফরিদগঞ্জ উপজেলার জন্যই সম্মানের। আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
শিক্ষাবিদদের মতে, একই পরিবারের দুই সন্তানের একযোগে এমন কৃতিত্ব অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। মায়মুনা ও মুনতাহার এই অর্জন প্রমাণ করে, অধ্যবসায়, পারিবারিক সহযোগিতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে সাফল্য অর্জন সম্ভব। তাদের এই সাফল্য ফরিদগঞ্জের শিক্ষাঙ্গনে একটি অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।



