ছাদে মাদকসেবীদের আস্তানা, আগুনের ঘটনায় মিলল মাদক সেবনের সরঞ্জাম

চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমের পাশে ভবনের ছাদে ওঠার সিঁড়ির সংলগ্ন একটি ফলস ছাদে মাদকসেবীদের আনাগোনার অভিযোগ উঠেছে। খোদ জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ভেতরে এমন একটি স্থানে মাদকসেবীদের আস্তানা গড়ে ওঠার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ওই স্থানে হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আগুন নেভানোর পর সেখানে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মাদক ব্যবহারের আলামত দেখতে পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

স্থানটি ট্রেজারি বিভাগের নারী পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত টয়লেটের ওপরের ফলস ছাদ বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তবে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কারা যাতায়াত করতেন এবং কীভাবে ওই স্থানটি বসে থাকা, খাওয়া কিংবা বিশ্রামের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মচারী জানান, জায়গাটি মূলত টয়লেটের একটি ফলস ছাদ। সেখানে বসবাসের জন্য কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। তাহলে কারা সেখানে নিয়মিত অবস্থান করতেন, কী উদ্দেশ্যে জায়গাটি ব্যবহার করা হতো এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম সেখানে কীভাবে এলো—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

আগুনের ঘটনার পর বিষয়টি সামনে আসায় প্রশাসনিক কার্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জেলা প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার অভ্যন্তরে যদি অননুমোদিতভাবে কেউ প্রবেশ করে এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ওই স্থানে কারা যাতায়াত করতেন এবং মাদক সেবনের সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করা হোক। একই সঙ্গে মাদক সেবনের আলামত ও সরঞ্জাম পাওয়ার বিষয়টি যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আইন, প্রশাসন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেই প্রতিষ্ঠানের ছাদে মাদকসেবীদের কথিত আস্তানা গড়ে ওঠার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

তবে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের সঙ্গে কারা জড়িত-এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী না করে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সংরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি এবং নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম