কিশোর আল-আমিন হত্যা মামলার আসামী তোরাবুর রহমান গ্রেপ্তার

চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আল আমিন নামে অপর কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামী তোরাবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম শহরের কালিবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন বলে জানান।

এর আগে গত ১২ জুলাই শনিবার রাতে এ হামলার ঘটনাটি ঘটে চাঁদপুর শহরে শহীদ মুক্তিযুদ্ধা সড়কের অঙ্গীকারের বিপরীত পাশের রেল লাইনে।

আল আমিন নামের ওই কিশোরকে অর্ধমৃত অবস্থায় লেকের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে হামলাকারী কিশোর গ্যাং সদস্যরাই ওই দিন রাত ৯ টার দিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেস।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড মুমিন পাড়া এলাকার বসবাসকারী রমজান আলীর ছেলে মো. আল-আমিনকে তার বন্ধু কিশোর গ্যাংয়ের হোতা তুরাবোর রহমান বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আসে। সন্ধ্যার পর তারা বেশ কয়েক জন মিলে লেকের পার অঙ্গিকারের বিপরীত পাশের রেল লাইনে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় আল আমিন কে মারধর করে লেকের পানিতে ফেলে দেয়। অনেকক্ষণ পর বন্ধুরাই আল আমি কে লেকের পানি থেকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।

নিহত আল আমিনের পিতা রমজান আলী বাদী হয়ে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামী করে চাঁদপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

নিহত আল আমিনের বাবা রমজান আলী ও নানা বিল্লাল হোসেন মাঝি অভিযোগ করে বলেন, আল আমিনকে কিশোর গ্যাং সদস্যরা মেরে লেকের পানিতে ফেলে দিয়েছে। আবার তারাই সন্নাসী সাজতে আল আমিনকে পানি থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আল আমিনকে হত্যার পূর্বের দিন শুক্রবার বিকালে হাজী মহসীন রোডে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এই কিশোর গ্যাং সদস্যদের নেতৃত্বে। আল আমিনের চোখের পাশে রক্তাক্ত জখম এবং হাতে ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

হত্যার দিন স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসা কিশোর গ্যাং এর ৫ সাদস্যকে ধরে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু ঘটনার পর থেকে তোরাবুর রহমান পলাতক হয়। আটক তোরাবুর রহমান চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার আদর্শ মুসলিম পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের সফরমালি এলাকায়।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম