কথিত ‘বড় ভাইদের’ আস্কারায় কচুয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ বাড়ছে

প্রতিকী ছবি।

কচুয়া (চাঁদপুর): নেপথ্যে থাকা কথিত ‘বড় ভাইদের’ আস্কারায় কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংগুলো বেপরোয়া ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। ছোট ছোট অপরাধ থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, ইভটিজিং, ছিনতাই ও মাদকাসক্ত এসব বখাটেদের উৎপাত বেড়েই চলেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারা নিজেদের মধ্যে যেমন দ্বন্দ্বে লিপ্ত, তেমনি তাদের কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসীও আতঙ্কিত।

পাড়া-মহল্লা অপরাধী থেকে শুরু করে এমনকী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়ছে গ্যাংবাজিতে। কচুয়া প্রায় অর্ধশত কিশোর গ্যাংদের দল রয়েছে, দিনদিনই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রায়ই বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যরা গ্রেফতার হলেও পেছনে থেকে পৃষ্ঠপোষকতা ও আস্কারা দেয়া রাজনৈতিক দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধি নামধারী ‘বড় ভাইরা’ থেকে যাচ্ছেন অধরা। অভিযোগ রয়েছে, এসব কিশোর গ্যাংকে পেছন থেকে সমর্থন দেয় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের একাংশ। তারা ‘বড় ভাই’ হিসেবে এই কিশোরদের কাজে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারি দলের মাঠপর্যায়ের কতিপয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি কিশোর গ্যাংগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন। উগ্র কিশোরদের ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাসহ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছেন ওই ‘বড় ভাইরা’। ছোট খাটো সমস্যায় পড়লে তা তারা সামাল দেন।

গত (২২ আগস্ট) সোমবার সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলা কাদলা ইউনিয়নের গুলবাহার আশ্রয় কেন্দ্রের সামনে একটি শিক্ষার্থীকে বেদম মারধর করেন প্রায় ১০ থেকে ১২ জন, ১৫ থেকে ২০ বছরের বয়সী কিশোর। পরে ওই শিক্ষার্থী অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।

একই দিনে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের একজন শিক্ষার্থীকে মারধরের উদ্দেশ্যে গুলবাহার থেকে ১৫ থেকে ২০ জন, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর ওই গ্রামে যায়। তাদেরকে রাস্তার উপরে ওই হুল্লা, চিল্লাপাল্লা করতে দেখা যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চাঁদপুর এমএ খালেক স্কুল এন্ড কলেজের সামনে স্টেলের ব্রিজের বসে একদল যুবক প্রতিনিয়ত অবস্থান করে বলে শিক্ষার্থীদের অভিভাকরা জানান।

গত (১৫ আগস্ট) সোমবার দুপুরে কচুয়া পৌরসভাধীন কোয়া চাঁদপুর গ্রামের অধিবাসী অটো রিকশা চালককে রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত যখন করেন। পরে অটো রিকশা চালকের ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ২-৩ জনকে ধরলে বাকিরা পালিয়ে যায়।

কচুয়ার সুশীল সমাজের লোকজনরা জানান, প্রশাসনের উচিত হবে কিশোর অপরাধীদের প্রতি আরো নজরদারি বাড়ানো। এ ছাড়া অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠান অয়োজনের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।
ফম/এমএমএ/

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব | ফোকাস মোহনা.কম