কচুয়ায় তৃতীয়বার মত শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন নির্বাচিত

কচুয়া (চাঁদপুর): কচুয়া (জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২২ উপজেলা পর্যায়) উপজেলার ১৪৪নং নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল হোসেন উপজেলা পর্যায়ে তৃতীয়বার মত শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখায় সোমবার কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.নাজমুল হাসানের কার্যালয়ে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হিসাবে মনোনিত করা হয়। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইবনে আল জায়েদ হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এএইচএম শাহারিয়া রাসূল, সহকারি শিক্ষা অফিসার সুভাষ চন্দ্র, মোঃ জামাল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি ১৪৪নং নলুয়া দৌলতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই অত্যন্ত সুনাম, সততা, যোগত্য, মননশীলতা ও দক্ষতার সাথে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি প্রশাসনিক প্রশিক্ষণসহ শিক্ষার মান উন্নয়ন ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন,শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিতকরণ, মা সমাবেশ,অভিভাবক সমাবেশ,উঠান বৈঠক, স্থানীয় অনুদানে মিড ডে মিল বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ ইউনিফর্ম নিশ্চিতকরণ, প্রতিদিন শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করণে স্কুলের আগে ও পরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘হোম ভিজিট’ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, ক্ষুদে ডাক্তার কার্যক্রম বাস্তবায়ন, স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন করে স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার্থীদের মাঝে সততা চর্চার কৌশল হিসেবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নসহ পারিপার্শিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তিনি টানা তৃতীয় বারের মত কচুয়া উপজেলার ১৭১টি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০২২ সালের উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটিরসহ শিক্ষা সমাজের লোকজন তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

উপজেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন,শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিতকরণ, মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ, উঠান বৈঠক, স্থানীয় অনুদানে মিড ডে মিল বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ ইউনিফর্ম নিশ্চিতকরণ, প্রতিদিন শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করুনসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

মহামারি করোনা সময় বিদ্যালয়ের দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও এলাকার সকল শ্রেণী পেশার লোকজনের মাঝে বিনামূল্যে মাস্কসহ করোনা প্রতিরোধের সামগ্রী বিতরণ করি।

বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে আমার নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে নলুয়া দৌলতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করি, ওই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ব্রে , ভবন মেরামতসহ নানান উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। সারাদেশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিবছর বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করে আসছি। শিক্ষার্থীরা রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করে কিনা, বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের কাছে তদারকি ও হোম ভিজিট করে থাকি। প্রতিদিন শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করুনসহ শিক্ষার্থীদের বাড়িতে খোঁজ-খবর নিয়ে থাকি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জানান,১৪৪নং নলুয়া দৌলতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই অত্যন্ত সুনাম, সততা, যোগত্য, মননশীলতা ও দক্ষতার সাথে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমাদের সাথে সবসময় যোগাযোগ করেন এবং বাড়িতে গিয়ে হোম ভিজিট করে থাকেন। তাঁর সততা ও যোগ্যতা ও সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করায়, উপজেলা পর্যায়ে তৃতীয়বার মতো শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। আমাদের সকল অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জামাল হোসেন স্যারের জন্য আন্তরিক ও শুভেচ্ছা ধন্যবাদ।

ফম/এমএমএ/

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব | ফোকাস মোহনা.কম