কচুয়ায় দুই যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ!

কচুয়া (চাঁদপুর): ​চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া এলাকায় মাদক ও নানা অপকর্মের প্রতিবাদ করায় মো. হোসেন (২৬) ও মো. শাহপরান (৩০) নামের দুই যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পৃথক দুটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

​জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তাদের এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে স্থানীয় যুবকরা প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা একাধিকবার হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ৭ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার কড়ইয়া প্রাইমারী স্কুলের সামনে মো. হোসেনের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। ​

অভিযুক্তরা হলেন,  মো. শরীফ (৩০), মো. মাসুদ (৪০), মো. রাসেদ (৩২), মো. শাকিল (২৬) এবং মো. হাসান (২৮)। তারা সবাই কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া এলাকার বাসিন্দা।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,  অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন তাকে বেদম মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। এ সময় মো. মাসুদ হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র (ছোড়া) দিয়ে আঘাত করলে বাদীর বাম হাতের তালুতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

​এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে কড়ইয়া বিশ্বরোড এলাকায় মো. শাহপরান নামের আরেক যুবকের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে বিবাদী করে কচুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন, মো. মাসুদ (৪০), মো. কবির (৪৫), মো. শরীফ (৩০), মো. সুফিয়ান (৩০), মো. রাসেদ (৩২), মো. শাকিল (২৬), মো. হাসান (২৮), মো. সুমন (২৬) এবং মো. ইসমাঈল (২৫)। তারা সবাই কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া এলাকার বাসিন্দা।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,  কড়ইয়া বিশ্বরোড এলাকার একটি কনফেকশনারী দোকানের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে শাহপরানের পথরোধ করে কিল-ঘুষি মারে। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. মাসুদ হত্যার উদ্দেশ্যে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ দিলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে শাহপরানের বাম পায়ের গোড়ালিতে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়।

​পরপর দুটি হামলা ও মারধরের ঘটনায় আহত উভয় যুবক কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদের সাথে মুঠোফোনে ০১৮—৪৯৫ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

​এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন,  অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে এবং সত্যতা সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফম/এমএমএ/

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম