চাঁদপুর : চাঁদপুরের শাহরাস্তি মডেল থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারির সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান গত ১২ আগস্ট এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আ. হাই চৌধুরী। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসাইন (বিপি নং-৮৮০৭১২২৩৪৪), সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শহীদ উল্লাহ (বিপি নং-৮৪০৩১১১৪৯১), কনস্টেবল শরিফ উদ্দিন (বিপি নং-৯৬১৫১৭৮৭৩৭), গাড়িচালক নজরুল ইসলাম (বিপি নং-৮২০১০৮৮৪১৮) এবং কনস্টেবল ইসতিয়াক (বিপি নং-৯৪১৪১৬৯৪৪৪)।
এর আগে গত ২৮ জুলাই শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় স্থানীয়দের হাতে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি আটক হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। আটকের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ভয়েস ক্লিপ এবং অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার দাবি করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় ২৯ জুলাই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে শাহরাস্তিসহ চাঁদপুরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে দেশের বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হলে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ৩০ জুলাই কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আ. হাই চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীতে অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তদন্ত চলাকালে এএসআই শহীদ উল্লাহকে ৩ আগস্ট এবং কনস্টেবল শরিফ উদ্দিনকে ৫ আগস্ট কুমিল্লায় বদলি করা হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
ফম/এমএমএ/



