আল-আমিন একাডেমির গভর্নিং বডি বাতিলের প্রতিবাদ, ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ সোসাইটির

চাঁদপুর : চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি বাতিলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনাকারী সংস্থা আল-আমিন সোসাইটি। সোসাইটির অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। একই সঙ্গে তারা গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্তকে বিধিবহির্ভূত দাবি করে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সোসাইটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘ ৪৮ বছরের পথচলায় আল-আমিন একাডেমি চাঁদপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশায় দায়িত্ব পালন করছেন। অভিভাবকদের আস্থার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির পরিসর দিন দিন বাড়ছে বলে দাবি করে সোসাইটি।

শিক্ষার ফলাফল তুলে ধরে সোসাইটি জানায়, ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় আল-আমিন একাডেমির ৯৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে শিক্ষাবোর্ডে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। আর ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ২২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চম এবং চাঁদপুর জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুর রবের পরিকল্পনায় ১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি আল-আমিন সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর ২২ জানুয়ারি চাঁদপুরের নতুন বাজার এলাকার আহমদীয়া মাদরাসায় ১৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চারটি শ্রেণিতে আল-আমিন একাডেমির যাত্রা শুরু হয়। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দান এবং সোসাইটির উদ্যোগে সংগৃহীত অর্থে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান কাজী নজরুল ইসলাম রোডের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়।

সোসাইটি জানায়, ১৯৮৩ সালে আল-আমিন একাডেমি জুনিয়র হাইস্কুল এবং ১৯৮৬ সালে উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০০২ সালে একাদশ শ্রেণি চালুর অনুমতি এবং ২০০৬ সালে ছাত্রী শাখাকে পৃথক ব্রাঞ্চ স্কুল হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে অভিভাবকদের চাহিদার ভিত্তিতে গুণরাজদী ও বাবুরহাটে আরও দুটি ব্রাঞ্চ স্কুল চালু করা হয়েছে। এসব ব্রাঞ্চের অনুমোদনের জন্য চলতি বছরের ২২ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানায় সোসাইটি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৮৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আল-আমিন সোসাইটি কর্তৃক গঠিত ১৭টি ধারাবাহিক ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদন দিয়েছে। তবে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর সোসাইটির গঠিত গভর্নিং বডি বাতিল করে শিক্ষা বোর্ড।

এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে সোসাইটির অভিযোগ, ২০১৯ সালে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন সময়ে তাদের গভর্নিং বডি বাতিল করা হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হলে আদালত থেকে স্থগিতাদেশ আসে বলে দাবি করে সোসাইটি। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও একটি রিট করা হয় বলেও জানানো হয়।

সোসাইটির দাবি, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড তাদের গঠিত গভর্নিং বডি অনুমোদন করে। কিন্তু সম্প্রতি সোসাইটিকে না জানিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে আসেন এবং সোসাইটির বক্তব্য ও লিখিত মতামত না নিয়েই আগের অভিযোগের রেফারেন্সে গভর্নিং বডি বাতিল করেন। এ সিদ্ধান্তকে তারা ‘বিধিবহির্ভূত’ বলে দাবি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আল-আমিন সোসাইটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় অযাচিত সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানায়। একই সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বর গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সোসাইটির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও শিক্ষার মান সম্পর্কে জনমত তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি অভিভাবক ও চাঁদপুরবাসীকেও এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আল-আমিন সোসাইটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, শিক্ষানুরাগী জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান, আব্দুস শুক্কুর মস্তান, সোসাইটির সাবেক সদস্য মুজিবুর রহমান আনসারী, আবু আবদুল্লাহ মো. হাসান ও মাওলানা আফসার উদ্দিন মিয়াজী।

উন্মুক্ত পর্বে লিখিত বক্তব্যের পরে একাডেমি পরিচালনার বিষয়ে প্রশ্ন করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস, কাদের পলাশ, সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক আহম্মেদ ও প্রেসক্লারে কোষাধ্যক্ষ কেএম সালাহউদ্দিন।

চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এমএ লতিফ সহ স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এবং জাতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম