চাঁদপুর : চাঁদপুরে বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, কৃষির সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৭ থেকে ৮ হাজার একর জমিতে বড় ধরনের এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। একই সঙ্গে সরকারি খাস জমিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) স্থাপনের সম্ভাব্য স্থানও খুঁজে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাহেলা ওসমান সিকদার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত চক্ষু শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
বিডা চেয়ারম্যান বলেন, চাঁদপুরে বড় একটি এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার চেষ্টা চলছে। এ প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, সৌর প্যানেলের নিচের জমিতে কৃষিকাজও করা যাবে। অর্থাৎ একই জমি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পের জন্য চাঁদপুরে ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। প্রকল্পটি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার একর বা তারও বেশি জায়গাজুড়ে হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি চাঁদপুরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আশা করা হচ্ছে।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে এর সুফল শুধু চাঁদপুরবাসী নয়, দেশের মানুষও পাবেন। তিনি বলেন, যেকোনো কিছু বলা খুব সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন। তবে আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত আপনাদের জন্য এটা করা যায়, তত দ্রুত করার।
চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগের বিষয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, প্রায় দুই মাস আগে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে এসে ইপিজেড করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারের কী পরিমাণ খাস জমি রয়েছে এবং সেসব জমিতে ইপিজেড স্থাপন সম্ভব কি না, তা খুঁজে দেখছে।
তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে আর্থিক স্বচ্ছলতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাই নতুন করে জমি অধিগ্রহণ না করে সরকারি খাস জমিতেই ইপিজেড করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে শুধু জমি থাকলেই ইপিজেড স্থাপন করা সম্ভব নয়। সেখানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুবিধা, সড়ক যোগাযোগ, সাইট উন্নয়নের ব্যয় এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য সড়ক বা নৌপথে সহজে চট্টগ্রামে নেওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
বিডা চেয়ারম্যান আরও বলেন, চাঁদপুরের এসব উন্নয়ন উদ্যোগের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত জানানো হবে। প্রতি তিন মাস পরপর কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সংগঠনের সদস্য অধ্যাপক ড. তারিফুজ্জামান সোহেল সিকদার, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, এডিশনাল আইজিপি (টেলিকম) মো. মনিরুজ্জামান, ডিআইজি তাপতুন নাসরীন, প্রাইম ব্যাংকের এমডি নাজিম এ চৌধুরী, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর হারুন চৌধুরী, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনিসহ অন্যান্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ফম/এমএমএ/



