চাঁদপুর : চাঁদপুরের আলোচিত সোনা ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে উদ্ধার করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। বর্তমানে পিন্টু দাসকে থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর স্ত্রী রিমি দে ও দুই সন্তানকে থানায় পৃথক কক্ষে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ব্রিফিং কক্ষে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানায়, ২৬ আগস্ট পিন্টু দাসের আত্মগোপনে যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। প্রথমে তাঁর আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হয়। পরে চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ি মিজানুর রহমান চৌধুরী সড়কের সৌর ভিলা নামের ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পারে, পিন্টু দাস বাসার মালামাল নিয়ে চলে গেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও গাড়ির নম্বরসহ চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে চট্টগ্রামের পটিয়া থানার দলঘাট দাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের চাঁদপুরে নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দাস জানিয়েছেন, ঋণের কারণে কাউকে না জানিয়ে তিনি আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। তবে শুধু ঋণের বিষয়, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ও জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
এদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসা রেখে কাউকে না জানিয়ে চলে যাওয়ার কারণ জানতে পিন্টু দাসের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এই প্রতিবেদক। তবে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ তাঁকে কথা বলার অনুমতি দেননি। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়া আপাতত কেউ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না।
পুলিশ জানায়, চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটে ‘এসকে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস। তাঁর বিরুদ্ধে বন্ধকি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা-পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ আগস্ট রাতে তিনি চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের কালীবাড়ি মন্দিরসংলগ্ন ভাড়া বাসার মালামাল নিয়ে পরিবারসহ চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
তবে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা হয়নি। কোনো পাওনাদার তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফম/এমএমএ/



