চাঁদপুর : চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মামলার নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে বিবাদী, ইউপি সদস্য ও পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
মামলার বিবাদী হাসান গাজী অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ইউপি সদস্য মো. মানিক গাজী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং আরও দুজন মিলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন রনি। ইউপি সদস্য মানিক গাজীর দাবি, হাসান গাজী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও ধারণ করে পরিষদে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেন এবং তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিন গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
জানা গেছে, ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৈশাদী গ্রামের মৃত ইউসুফ গাজীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর ভাই আক্কাছ গাজীর পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে মাসুদ গাজী গং ইউনিয়ন পরিষদে একটি মামলা করেন। মামলার নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত থাকা নিয়ে বিবাদী হাসান গাজীর সঙ্গে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মানিক গাজীর কথা হয়।
হাসান গাজীর ভাষ্য, তাঁর মা অসুস্থ থাকায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ কারণে মামলার নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত থাকা তাঁর জন্য সমস্যার ছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন এবং সেখানে নিজের কার্যক্রম ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।
একপর্যায়ে হাসান গাজী ও ইউপি সদস্য মানিক গাজীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায় বলে অভিযোগ করেন হাসান। তাঁর দাবি, মানিক গাজী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আরও দুজন তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন রনি বলেন, আমি কাউকে লাঞ্ছিত করিনি। আমার কক্ষের সামনে এ ধরনের ঘটনা দেখে তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেছি।
ইউপি সদস্য মানিক গাজী বলেন, হাসান গাজী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও করে পরিষদে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছেন। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন।
ঘটনার সময় হাসান গাজীর সঙ্গে জসিম মজুমদার ও মনির গাজী নামে আরও দুজন ছিলেন। তাঁরা নিজেদের প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন গ্রাম পুলিশ সদস্যও পরিষদে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে পরিষদের সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া গেলে তা পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
ফম/এমএমএ/



