
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে প্রতিদিনের মতো রাস্তার পাশের জমি থেকে লাউ সংগ্রহ করতে যান লিয়াকতের ছেলে মামুন হোসেন। জমিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সারি সারি লাউগাছ মাটিতে পড়ে আছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে। মুহূর্তেই আনন্দের বদলে নেমে আসে বিষাদের ছায়া।
লিয়াকত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দুই পাশের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছেন। এর মধ্যে লাউ ছিল অন্যতম প্রধান ফসল। স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি এই সবজি আবাদ শুরু করেন। ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের ভরণ-পোষণ ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর।
কিন্তু দুর্বৃত্তদের এই কর্মকাণ্ডে সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই ধূলিসাৎ। শতাধিক লাউগাছ কেটে দেওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক লিয়াকত।
লিয়াকত হোসেন বলেন, স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অনেক কষ্ট করে রাস্তার দুই পাশে সবজি চাষ করেছি। এই সবজি বিক্রি করেই আমার সংসার চলে, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাই। কে বা কারা রাতের আঁধারে আমার লাউগাছগুলো কেটে দিয়েছে জানি না। এক রাতেই আমার অনেক দিনের পরিশ্রম শেষ হয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
লিয়াকতের ছেলে মামুন হোসেন বলেন, সকালে রাস্তার পাশে লাউ কাটতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি সব লাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। দৃশ্যটি দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। আমার বাবার এত দিনের পরিশ্রম এভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট করার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে কথা বলে কৃষি প্রণোদনার আওতায় তাঁকে বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।



