চাঁদপুর: চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় তীব্র গ্যাস সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। একদিকে দিনের পর দিন গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্না করতে পারছেন না গ্রাহকরা, অন্যদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কচুয়ার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক থাকছে না। অনেক সময় চুলায় গ্যাস থাকলেও চাপ এতটাই কম থাকে যে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়ে। সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফলে অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, মোবাইল ফোন চার্জ, ইন্টারনেট ব্যবহারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত খরচ করে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এই দুই সংকট একসঙ্গে চলায় পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “গ্যাসের চাপ থাকে না, আবার বিদ্যুৎও কখন চলে যায় তার ঠিক নেই। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় পরিবারের দৈনন্দিন কাজ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।”
আরেক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে ছোট ব্যবসায়ীরা আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কচুয়ার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংকটের কারণ ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো উচিত।
স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন- কচুয়ায় গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ের এই চরম ভোগান্তি আর কতদিন চলবে? কবে স্বাভাবিক হবে নাগরিক জীবনের মৌলিক এই দুই সেবা?
জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে- এমনটাই প্রত্যাশা কচুয়াবাসীর।
ফম/এমএমএ/



