সরকারি খাল দখল করায় আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা, তদন্তের নির্দেশ

ছবি: সংগ্রহীত।

চাঁদপুর: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চৌরাঙ্গি বাজারে সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে প্রকাশিত একটি সংবাদের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) মামলা গ্রহণ করেছেন ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন আহমেদ স্বপন।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ জুন স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ‘খালের ওপর অবৈধ স্থাপনায় ৩১ জনের সমঝোতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সরকারি খাল দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।

প্রকাশিত সংবাদের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঘটনাটি আমলে নিয়ে ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতে একটি মামলা রুজু করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী সরকারি বা জনস্বার্থে ব্যবহৃত জমি কিংবা জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা একটি আমলযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনস্বার্থ, পরিবেশ এবং কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

একই আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারায় ফরিদগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণকারী ও সেখানে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, দখলের প্রকৃতি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত সংযুক্ত করে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আদালতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে আদালতের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আইনজীবী ও সচেতন মহল। তাদের মতে, সংবাদ প্রকাশের পর আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ সরকারি খাল, জলাশয় ও অন্যান্য সরকারি সম্পত্তি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে এটি সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

ফম/এমএমএ/চৌইই/

চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম | ফোকাস মোহনা.কম