
চাঁদপুর: চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মাসুদুর রহমান এর নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন করার মাধ্যমে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়।
কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী সকাল ৭:৩০ টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এবং কলেজ শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। “মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৪” উপলক্ষে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘শেখ রাসেল দেয়ালিকা’ উন্মোচন করেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মাসুদুর রহমান। ‘দেয়ালিকা’ উন্মোচন শেষে কলেজ ২১৬ নং কক্ষে বাংলা বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করে একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদাউস ও পবিত্র গীতা পাঠ করে একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার শিক্ষার্থী সান্তনা।
বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তাহমিনা ফেরদৌস এর সভাপতিত্বে¡ এবং সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক আলআমিন এর সঞ্চালনায় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মাসুদুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইকবালুর রহমান, কলেজের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জীবন কানাই সাহা এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ এনামুল হক। সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তাহমিনা ফেরদৌস।
“সর্বস্তরের বাংলা ভাষার প্রচলন: বর্তমান প্রেক্ষাপট” প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বংলা ভাষার সর্বস্তরের প্রচলনের ক্ষেত্রে সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আফসার আলী শিকদার, সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ এনামুল হক।
প্রধান অতিথি প্রফেসর মোঃ মাসুদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভাষা শহিদরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের অবদানের জন্যই বাংলা ভাষা রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা পেয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ২১ শে ফেব্রেুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন চুড়ান্ত রূপ পায়। মহান ২১ আমাদের প্রেরণার উৎস। ৫২ এর ফেব্রুয়ারি ২১ এর ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য বর্তমান প্রজন্মকে বুকে ধারণ ও লালন করতে হবে। তবেই শহিদদের আত্মা শান্তি পাবে।” তিনি আরও বলেন, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিনত হয়েছে এবং তোমাদের মাধ্যমেই ২০৪১ সালে এদেশ স্মার্ট বাংলাদেশে পরিনত হবে।
সেমিনারে কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মচারী, বিএনসিসি, গার্ল ইন রোভার, রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্যরা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের সভাপতি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ফম/এমএমএ/



