চাঁদপুর: শত শত মুসল্লি প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার শুভাগমনে জশনে জুলুছ করেছেন। ছিলো না কোনো ক্লান্তি। অন্যান্য দিনের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার পরিবর্তে এদিন আকাশ যেনো মেঘমালার ছায়া দিয়েছে। সকালের ঝাঁজালো রোদের পরিবর্তে পুরো জুলুছের সময়টা ছিলো পুরো আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। কিন্তু বৃষ্টি নামেনি। অর্থাৎ শীতল আবহাওয়া ছিলো পুরো জুলুছের সময়টাতে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার ছদকায় তাঁরই শুভাগমনের জশনে জুলুছের সম্মানে এমন পরিবেশ নবীর আশেকদের জন্য রাব্বুল আলামিন করে দিয়েছেন এমনটাই বিশ্বাস জুলুছে অংশগ্রহণকারীদের।
এমন একটা অসাধারণ ভাবগাম্ভীর্যময় পরিবেশে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠিত হয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮নং বাগাদী ইউনিয়নে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশাল এই জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত হয়েছে রোববার (৩০ আগস্ট ) সকালে।
জুলুছ শেষে মিলাদ কিয়াম ও তবররুক বিতরণ করা হয়।
পশ্চিম বাগাদী ঢালীরঘাট কেন্দ্রীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার উদ্যোগে আয়োজিত এই জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবীর ব্যবস্থাপনায় ছিলো বাগাদী ইউনিয়ন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত। এছাড়া বাগাদী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বাগাদী দরবার শরীফ, গাছতলা দরবার শরীফ ও নানুপুর দরবার শরীফের সার্বিক সহযোগিতা ছিলো এই জশনে জুলুছে। সকাল ৯টায় ঢালীরঘাট কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য জুলুছ বের হয়ে বাগাদী স্কুল, মাদ্রাসা, চৌরাস্তা এবং ইচলী হয়ে পুনরায় ঢালীরঘাট মসজিদে এসে শেষ হয়। পথিমধ্যে বাগাদী চৌরাস্তায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বক্তব্য রাখেন বাগাদী দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা মাহফুজ উল্লাহ খান ইউসুফী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ এবং ঢালীরঘাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আল-আমিন আজহারী। জুলুছ শেষে মসজিদে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন বাগাদী দরবার শরীফের পীর সাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা একেএম নেয়ামত উল্লাহ খান। মিলাদ পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন এবং মাওলানা নূরে আলম নাদিম। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির।
বর্ণাঢ্য এই জুলুছে বাগাদী দরবার, গাছতলা দরবার ও নানুপুর দরবার শরীফের ভক্ত মুসল্লি, ঢালীরঘাট মোহাম্মদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, ঢালীরঘাট মঈনিয়া খানকা শরীফের ভক্ত ও মঈনিয়া যুব ফোরামের কর্মীবৃন্দ এবং ঢালীরঘাট এলাকার বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। জুলুছে অংশগ্রহণকারীরা সমস্বরে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার শানে নাতে রাসুল, দুরূদ এবং মিলাদ কিয়াম পরিবেশন করেন। নারায়ে তাকবীর আর নারায়ে রিসালাতের স্লোগানে মুখরিত করা হয়। প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা পায়ে হেঁটে জুলুছ করেন শত শত নবী প্রেমিক সুন্নী মুসলমান।



