নবীর আগমনে ঈদ উদযাপন করা আল্লাহ পাকের নির্দেশ : আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ

চাঁদপুরে বিশাল জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী ও সুন্নী সমাবেশ

চাঁদপুর: ‘তোরা দেখে যা আমেনা মায়ের কোলে’, ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়’, ‘আজি ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিল, নবীর আশিক কে আছো ভাই হওরে শামিল, আজি ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিল’- এভাবেই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার শুভাগমনকে স্বাগত জানিয়ে নাতে রাসুল, দুরুদ ও সালাম গাইতে গাইতে হাজার হাজার নবী প্রেমিক সুন্নী মুসলমান জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চাঁদপুর শহরে নবী প্রেমিকদের ঢল নামে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে এই জশনে জুলুছ ও সুন্নী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাইক্রো স্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় এই সুন্নী সমাবেশ। এখান থেকেই শহরে বিশাল বর্ণাঢ্য জুলুছ বের হয়।

জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী ও সুন্নী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মজলিশে শুরার অন্যতম সদস্য, ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফে পীর সাহেব আওলাদে রাসুল আল্লামা সাইয়েদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল-মাদানী।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পৃথিবীময় এ কথা স্বীকৃত যে, সৃষ্টি জগতের জন্য মহান স্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত, দয়া, অনুগ্রহ হচ্ছেন আল্লাহর প্রিয় হাবীব আমাদের পেয়ারা নাবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ পাক নিজেও কোরআনে তাঁর প্রিয় হাবীবকে সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ পাক সূরা ইউনুসের মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন- আমরা যেনো আল্লাহর অনুগ্রহ, দয়া এবং রহমত প্রাপ্তিতে খুশি উদযাপন করি। বাংলায় হলো খুশি, আর আরবিতে হলো ঈদ। তাই আমরা আল্লাহর হুকুম পালনার্থে প্রিয়নবীর শুভাগমন উপলক্ষে ঈদ উদযাপন তথা জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী করে থাকি। এই ঈদ হচ্ছে ঈমানের ঈদ। আর ঈদুল ফিতর, ঈদুল আদ্বহা হচ্ছে ইবাদতের ঈদ। ঈদে মিলাদুন্নবী তথা নবীর আগমন যদি না হতো, তাহলে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আদ্বহা কোনো কিছুই হতো না এবং আমরা পেতামও না। কারণ ঈদুল ফিতর, ঈদুল আদ্বহা হচ্ছে উম্মতে মোহাম্মদী মুসলমানদের জন্য। তাই সকল ঈদের সেরা ঈদ, শ্রেষ্ঠ ঈদ হচ্ছে ঈদে মিলাদুন্নবী। অথচ কিছু জাহেল মুর্খ মৌলভী বলে ইসলামে নাকি দুই ঈদ ছাড়া তৃতীয় কোনো ঈদ নাই। অথচ হাদীসে পাকের ঘোষণা অনুযায়ী জুমার দিন ঈদ, আরাফাতের দিন ঈদ। সৈয়দ বাহাদুর শাহ ওই সমস্ত জাহেল মোল্লাদের ফতোয়ার দিকে কান না দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যান্য বক্তারা সরকারিভাবে ঘোষিত ঈদে মিলাদুন্নবীর বিরোধিতাকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহীতার আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। বক্তারা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জানের সম্প্রতি “বিদআতে দেশ আছে গেছে, নামাজে বিদআত, দোয়ায় বিদআত’ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সেনাপ্রধান এই বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তাই আমরা আজকের এই সমাবেশ থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামানের অপসারণ দাবি জানাচ্ছি। বক্তারা শহীদে মিল্লাত আল্লামা নূরুল ইসলাম ফারুকী এবং ইমাম মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার বিচারের জোরালো দাবি জানান।

ফরিদগঞ্জ ঘনিয়া সাঈদিয়া দরবার শরীফের শাহজাদা মাওলানা নাজমুল আখন্দ নকশবন্দীর সভাপ্রধানে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ আল্লামা জাকারিয়া মাদানী, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন, বড়কুল দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ আল-কাদেরী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেন্দ্রীয় পরিষদের অন্যতম সদস্য ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ, পীরজাদা মাওলানা খাজা মোহাম্মদ জোবায়ের, মুফতি মাওলানা আবুল হাশেম শাহ মিয়াজী, মুহাদ্দিস মাওলানা মাসুদ হোসাইন, অধ্যক্ষ আল্লামা রফিকুল ইসলাম হেলালী,  মদনা দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা শাহ মোহাম্মদ কাউসার, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. এমদাদ হোসেন পাটওয়ারী, জমঈয়াতে হিযবুল্লাহ চাঁদপুর শহর শাখার সেক্রেটারি সাংবাদিক মাওলানা আব্দুর রহমান গাজী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুল হান্নান নিজামী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম নেতা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান মজুমদার, গাউসিয়া বোরহানিয়া দরবার শরীফের পক্ষে মাওলানা রবিউল হাসান, অ্যাড. ফরিদ হোসেন প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম ও নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম নেতা মোতাসিম বিল্লাহ মাসুম। উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা গাউসিয়া কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহজামাল তালুকদার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি কামরুল হাসান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক খাজা নূরুল আমিন, সদর উপজেলার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নেতা আবুল বাশার, ডা. সাদেক উল্লাহ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে জশনে জুলুছ শহর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে মিলাদ কিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম