প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সমন্বয়ের দাবী শিক্ষক ও অভিভাবকদের

চাঁদপুর : করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রায় দুই বছরের অধিক সময় প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাডেমিক শিক্ষার যে দূরুত্ব তৈরী হয়েছে তা কাটিয়ে বিশ্বমানের শিক্ষার সাথে সমন্বয়ের দাবী শিক্ষক ও অভিভাবক মহলের। সরকার কারিকুল্যামে যে পরিবর্তন এসেছে তা খুবই স্বল্প পরিসরে। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত আরো শক্তিশালী করতে সর্বমহল থেকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তাহলেই প্রাথমিকের পরবর্তী দাফগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হবে।

সম্প্রতি চাঁদপুর জেলা সদরের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মর্ডান শিশু একাডেমি ও বিষ্ণুদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান, শ্রেণী শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে সার্বিক বিষয়ে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে।

শহরের ব্যাংক কলোনীতে অবস্থিত মর্ডান শিশু একাডেমির প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক জানান, তার বিদ্যালয়ে করোনার পূর্বে শিক্ষার্থীছিলো ৪শতাধিক। বর্তমানে নার্সারী, কেজিসহ প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৩৯জন। স্থায়ী শিক্ষক রয়েছে ৭জন। শ্রেনী কক্ষ ৫টি। আসবাবপত্র পর্যাপ্ত। শ্রেণী কক্ষের পড়ার টেবিল ৪৯ জোড়া। প্রতিটি পড়ার টেবিলে বসতে পারেন ৩জন করে। তিনি আরো জানান, গত ৫ বছরে শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতি ৯১%। ঝড়ে পরা শিক্ষার্থী নেই। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষ জনক। ২০১৮ সালে পঞ্চম শ্রেনীর সমাপনীতে শতভাগ ভাগ পাশ। ২০১৯ সালে শতভাগ পাশ। সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে ৫জন এবং ট্যালেন্টপুলে ২জন। করোনার কারণে এরপর আর সমাপনী হয়নি।

ওমর ফারুক বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা হয়। দিবস উপলক্ষে বেশী আয়োজন থাকে। স্কাউট কাব দল রয়েছে। কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল হোসেন ও ফাহিমা আক্তার বলেন, সরকারি যে পাঠ্য বই রয়েছে এসব বইতে পরিবর্তন কিংবা পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করলে শিক্ষক ও অভিভাবক এর মতামত নেয়া প্রয়োজন। সকলের সমন্বয়ে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন হলে কোন ধরণের সমালোচনা হবে না। শিক্ষার গুনগত মান আরো বাড়বে।

অভিভাবক জুবেদা শরমিন বলেন, বেসরকারি বিদ্যালয় হলেও এই বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইগুলো খুবই যত্নসহকারে পড়ানো হয়। কিন্তু সরকারি বিদ্যালয়ে গড়ে পড়ানো হয়। আলাদা করে শিক্ষার্থীদের প্রতি কেয়ার করা হয় না। এই বিদ্যালয়ে ৯ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে শিক্ষার পরিবেশ তৈরী ও শিক্ষার মান উন্নয়নে তারা কাজ করেন। পরিচালনা পর্ষদের বছরে কমপক্ষে ৫-৭টি মিটিং হয়।

এদিকে শহরের বিষ্ণুদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখাগেল খুবই চমৎকার পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি ভবন রয়েছে। শিশুদের জন্য চমৎকার শ্রেনী কক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফুর রহমান। তিনি প্রধান হিসেবে ৯ বছর দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৫৩জন। শ্রেনী কক্ষ ১০টি। শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিল ৬২ জোড়া। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেনী ছাড়াও অতিরিক্ত দুইটি শ্রেনী রয়েছে। একটি হচ্ছে ৪ বছরের অধিক বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য প্লে এবং প্রাক প্রাথমিক। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য পদ ৮টি। শিক্ষক আছে ৮জন। শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতি ৮৫%। ঝড়ে পড়ার বিষয়ে কোন তথ্য নেই। তবে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের কারণে পঞ্চম শ্রেনীতে এসে শিক্ষার্থী সংখ্যা কিছুটা কম থাকে।
এই বিদ্যালয়ে করোনাকালীন সময় ছাড়া বাকী সময়ে পঞ্চম শ্রেনীর সমাপনীতে শতভাগ পাশ রয়েছে। ২০২২ সালে একজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক চর্চা হয়। এছাড়াও সাপ্তাহিক গানের ক্লাস রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক জুলফুর রহমান বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার মান আরো বাড়ানো প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এই বিদ্যালয়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট তিন বছর মেয়াদী কমিটি আছে। আর্থিক সহযোগিতাসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে শিক্ষক ও অভিভাবক সমাবেশে এই কমিটি সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালমা সুতলানা বলেন, সরকারি যে বই রয়েছে খুবই চমৎকার। তবে এ বছর কিছু পরিবর্তন হয়েছে। পাঠদান করাতে কোন ধরণের সমস্যা হয় না। বই পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ফোন থেকে দুরে রাখার জন্য অভিভাবকদের সতর্ক রাখতে হবে।

এই বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক জান্নাত বলেন, সরকার যে পাঠ্য বই দিয়েছে, এসব বই ভালোভাবে পড়ালে হবে। তারপরেও আমি নিজ থেকেই সন্তানের প্রতি যত্ন নেই। তার দৈনিক পড়াগুলো আদায় করার জন্য আমার সার্বিক প্রচেষ্টা থাকে। এটি আমার দৈনন্দিন কাজের অংশ মনে করি।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম