অরক্ষিত চাঁদপুর জেলা বীজ গুদাম

চাঁদপুর : চাঁদপুরের ৮ উপজেলার কৃষকদের জন্য জেলা পর্যায়ে একমাত্র বীজ গুদামটি এখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত। শহরের তালতলা এলাকায় অবস্থিত গুদামটিতে জনবল সংকট, নৈশ প্রহরী নেই এবং সীমানা প্রাচীর থাকলেও প্রধান গেট অকেজো। রবি ও খরিপ মৌসুমে ধান ও সব্জির সব ধরণের বীজই এই গুদামে সংরক্ষণ থাকে। কিন্তু গুদামের সামনের পরিবেশ দেখলে মনে হবেনা এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষনাগার।

সম্প্রতি গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখাগেছে, প্রধান গেট বহু বছর থেকে নষ্ট। গেটের একপাশে আশপাশের লোকজন প্রস্রাব করার কারণে গেটের লোহায় মরিচা পড়ে রং পরিবর্তন হয়েগেছে। গেটের আভ্যন্তরে স্থানীয়রা একটি গাড়ী এনে রেখেছেন। গাড়ীর পাশেই জনৈক ব্যাক্তি গুদামের সামনে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করছেন। আরেক ফার্নিচার ব্যবসায়ী বেশ কয়েকটি চেয়ার গুদামের সামনে রেখে রোদে শুকাচ্ছেন।

গুদামের প্রবেশ মুখে একটি কক্ষের মত স্থানে দুইজন কাজ করছেন। এর মধ্যে সহকারী হিসাব রক্ষক মো. মনির হোসেন জানান, তিন বছর তিনি এই গুদামে কাজ করছেন। তখন থেকেই জনবল সংখ্যা তিনজন। বর্তমানেও সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. খায়রুল বাসার, স্টোর কিপার মো. মিজানুর রহমান ও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এই গুদাম থেকেই আমাদের হাজীগঞ্জ বিক্রয় সেন্টারে বীজ সরবরাহ হয়। এছাড়াও আশপাশের ইউনিয়ন ও উপজেলার কৃষকরা আমাদের কাছ থেকে বীজ ক্রয় করেন। বর্তমানে শুধুমাত্র শীতকালীন সব্জির বীজ সংরক্ষণ আছে। ভবনের ছাদ কিছুটা ড্যাম হলেও নীচে পিউমিগেশ শীট ব্যবহার করে বীজ রাখা হয়। যে কারণে বীজ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার শঙ্কা নেই।

তিনি আরো জানান, অরক্ষিত অবস্থায় আমাদের কাজ করতে হয়। গেট নষ্ট থাকায় এখানে স্থানীয় লোকজন এসে প্রবেশ করে, প্রস্রাব করে ও মালামাল রাখে। তাদেরকে কিছু বললে হুমকি ধমকি দেয়। আমরা এখানকার স্থানীয় না হওয়ায় ভয়ে থাকতে হয়। বহুবার স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদেরকে গুদামের আভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আপনারা এসেও পরিস্থিতি দেখলেন। আমরা গুদামের ভিতরে কাজে ব্যস্ত থাকি। কোন কর্মচারী নেই বাহিরে কাজ করার জন্য।

সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. খায়রুল বাসার জানান, জনবল সংকট হচ্ছে আমাদের বড় সমস্যা। জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখে সর্বশেষ নিরাপত্তা প্রহরী দেয়ার জন্য কুমিল্লা আঞ্চলিক উপ-পরিচালক বরাবর আবেদন পাঠানো হয়েছে। এর আগেও বহুবার জনবলের চাহিদা দেয়া হয়েছে। ১৩জন জনবল থাকার কথা থাকলেও মাত্র আমরা ৩জন দায়িত্ব পালন করছি।

তিনি আরো জানান, চাঁদপুর জেলা নদী উপকূলীয় হওয়ার কারণে কৃষি আবাদের ঐতিহ্য আছে। এখানে সব ধরণের ফসলই কম বেশী হয়। এই বীজ গুদামের আওতায় সরকার অনুমোদিত ১৩৫জন পরিবেশক আছে। যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষক পর্যায়ে বীজ বিক্রি করেন। তাদের সকলকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তাদেরকে নির্ধারিত সময় বীজ প্রদান এবং আশপাশের কৃষকদের চাহিদাও পুরন করতে হয়। সব মিলিয়ে আমাদের একটি কঠিন অবস্থা মোকাবেলা করে কাজ করতে হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দাপ্তরিক নিয়মানুসারে সমস্যার বিষয়গুলো অবগত করা হয়েছে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম