চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে দুই দিনে ৪শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

চাঁদপুর :  যানজট নিরসন, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা এবং মহাসড়কে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে দুইদিনে প্রায় ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাককে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর সড়ক বিভাগ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সওজ সড়ক বিভাগ চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুস আলী।

প্রথম দিন সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শহরের ওয়ারলেস এলাকা থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে চাঁদপুর-কুমিল্লা-ফরিদগঞ্জ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে বাবুরহাট এলাকার দীর্ঘদিন দখলে থাকা মার্কেটটি গুড়িয়ে দেয়া হয়।

দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় অভিযান। এই দিন বাবুরহাট থেকে শুরু করে হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল পর্যন্ত অভিযান পরিচালিত হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে বাকিলা ও বলাখালে বহু অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়।

সড়ক বিভাগ থেকে জানিয়েছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা-ফরিদগঞ্জ মহাসড়কের খাজুরিয়া থেকে বর্ডার বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ছয় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা গড়ে ওঠায় মহাসড়কের প্রশস্ততা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও জনবহুল এলাকায় অবৈধ স্থাপনার কারণে নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

সওজ চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. ইউনুস আলী বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে দখল করে থাকা স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট দখলদারদের আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের পরও অনেকেই স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। আপাতত দুই দিন অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দুইদিনে প্রাায় ৪শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

তিনি বলেন, উচ্ছেদের পর উদ্ধার হওয়া সরকারি জায়গা যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দখলমুক্ত জায়গাগুলোতে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম