চাঁদপুরে আইনজীবী ছাড়াই বিচার কার্যক্রম চলছে আদালতে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ॥ চাঁদপুরের তিনটি আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে আজ জেলা আইনজীবী সমিতি। আদালত প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন মামলার প্রয়োজনে আসা বিচার প্রার্থীরা বিচার কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছেন।

দুপুরের পরে আদালতের বিচারকরা বিচারিক কার্যক্রম শুরু করলেও আইনজীবীদের অনুপস্থিতির কারণে অনেক মামলার শুনানী পিছিয়ে গেছে এবং নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি আইনী সহায়তার অভাবে তাদের স্বাভাবিক ভোগান্তি কয়েকগুন বেড়ে গেছে। আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কর্মসূচী বহাল থাকায় চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মো. ফখরুদ্দিন স্বপন।

মামলার কাজে আসা এক বিচারপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দূর থেকে সকাল সকাল টাকা-পয়সা খরচ করে আদালতে এসেছি। কিন্তু আদালতে এসে শুনি আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেছেন। সকালে আইনজীবীগন আমাদের কাছ থেকে ফিস নিয়ে নিয়েছেন। এখন শুনি মামলা শুনানী করবে না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষই দিন শেষে বিপদে পড়ে। এ বিষয়ে সাধারণ বিচার প্রার্থীরা দ্রুত সমাধান। চান যেন আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলে এবং বিচার বিভাগীয় সেধা থেকে বঞ্চিত না হন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের আদালতসমূহের তীব্র বিচারক সংকট ও এজলাস সংকটের কারণে স্বাভাবিক কারণেই বিচারকগন একাধিক কোর্টের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এবং অনেক সময় রাতেও কোর্ট পরিচালনা করতে হয়। এই রকম একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে বার ও বেঞ্চের এই বিরোধের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারণ নাগরিকরা। এ অচলাবস্থা নিরসনে উভয় পক্ষেরই দ্রুত সমন্বয়ের প্রত্যাশা সাধারণ আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের।

সূত্রে আরো জানা যায়, জামিন আবেদনে সভাপতি-সেক্রেটারী ও পি.পি-কে পূর্বেই অবগত করানোর বিষয়কে উপজীব্য করে এবং সিনিয়র সিভিল জজ আদালত এর একটি নিষেধাজ্ঞা শুনানীতে আইনজীবী নেতাদের বেআইনী আব্দার রক্ষা না করায় তিনটি কোর্ট বর্জন করেন তারা আজ। মূলতঃ আদালতের উপর প্রভাব বিস্তার করতে না পেরেই আইনজীবী নেতারা মূল ঘটনাকে আড়াল করতে এই বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আইনজীবী সমিতির একাংশের আইনজীবীগন সাধারণ সভা করে চাঁফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, চাঁদপুর সদর বর্জনের ঘোষণা দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজীবী বলেন, সভার শুরুতেই তাদের কাছ থেকে জোর করেই স্বাক্ষর আদায় করা হয়। একই সভাস্থলে তারা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও জেলা প্রশাসক এর অধীনস্থ আদালতসমূহও বর্জনের হুমকি দেয়। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজ কিছু আইনজীবী শুনানীতে অংশগ্রহন করতে চাইলেও তাদেরকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোর করে আদালত কক্ষের বাইরে নিয়ে যান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি।

আদালত বর্জনের আইনগত কোন ভিত্তি না থাকা সত্বেও ঘোষণা দিয়ে আদালত বর্জনের এই নজিরবিহীন ঘটনায় আদালত পাড়ায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বিষয়ে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।

এদিকে আইনজীবী সমিতির সূত্রে জানা গেছে বিচার বিভাগীয় প্রশাসনের সাথে কিছু বিষয়ে বনিবনা না হওয়ায় তারা কয়েকটি আদালতে বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের দাবী না মানা পর্যন্ত কর্মসূচী অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতারা।

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম