কচুয়ায় নব মুসলিমের পাশে দাঁড়িয়ে টিনশেড বিল্ডিং করে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

কচুয়ায় কাদলা ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম নামে এক নব মুসলিমের পাশে দাঁড়িয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার। নব মুসলিমকে একটি টিনশেড বিল্ডিং করে যাচ্ছেন তিনি।

কচুয়া (চাঁদপুর): বৃষ্টি এলেই ঘরের চাল চুইয়ে পানি পড়ত। কোথাও ফুটো দিয়ে, কোথাও ভাঙা টিনের ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকত বৃষ্টির পানি। তিনটি মাদ্রাসা পড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে সেই জরাজীর্ণ ঘরেই বছরের পর বছর কষ্টে দিন কাটছিল ৫০ বছর বয়সী দিনমজুর নব মুসলিম নুরুল ইসলাম। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে নতুন ঘর নির্মাণ ছিল তার কাছে অনেকটাই স্বপ্নের মতো।

অবশেষে সেই স্বপ্নের ঘর টিনশেড বিল্ডিং পেতে যাচ্ছেন । তার দুরবস্থার কথা কচুয়া মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ফরহাদ হোসেন তার ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিও দেখে জানতে পেরে নব মুসলিম নুরুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কাদলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার । নুর ইসলামকে প্রথমে ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে তার উদ্যোগে দুই প্রবাসীর সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে একটি টিনশেড বিল্ডিং করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন ও বিএনপির ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে তার টিনশেড বিল্ডিং করার জন্য জায়গা দেখতে যান।
এ সময় বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুল মোতালেব হোসেন, কচুয়া মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ফরহাদ আহমদ,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা জালাল উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোহাম্মদ নাঈম হোসেন, সাবেক ছাত্রদলের নেতা জহিরুল ইসলাম, জামাল হোসেন ও আরিফুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার বলেন, কচুয়া মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ফরহাদ আহমদ হুজুরের ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে উনি এই ভাঙ্গাচড়া ঘরটি দেখতে পাই। সেই বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে সে তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রথমে ২০ হাজার টাকা আমি অনুদান দিয়েছি। পরবর্তীতে দুজন প্রবাসী ভাই সহযোগিতায় আমি ওনাকে একটি পাকা টিনশেড বিল্ডিং করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
সে যেনো তার পরিবার ও সন্তানদেরকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে পারে সে জন্য আমার প্রচেষ্টা। এছাড়া ওই এলাকার এক হিন্দু সম্প্রদায়ের এক অসহায় ব্যক্তিকে বর‌ইগাঁও যুব উন্নয়ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আমি একটি ঘর করে দিয়েছি। ওই সংগঠনের বর্তমান আমি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব রয়েছি। এছাড়াও আমি এই ইউনিয়নে আমার সাধ্যমত অসহায় গরিব দুঃখী মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করে আসছি।
নব মুসলিম নুরুল ইসলাম বলেন, আমি ২০১৩ সালে কাগজপত্র মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি। আমি মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করা পর বিয়ে করলে তিনটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তিনটি ছেলে বর্তমানে হাফিজিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছেন। ইসলাম ধর্ম হলো শান্তির ধর্ম, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পরে আল্লাহর রহমতে এখন আমি অনেকটাই ভালো আছি। আর্থিক সমস্যার কারণে ভাঙ্গাচুরা ঘর থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এই ইউনিয়নের কৃতি সন্তান কাদলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার ভাই। আমাকে তিনি প্রথমে ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন পরবর্তীতে ওনার সার্বিক সহযোগিতায় আধাপাকা বিল্ডিং ঘর করে দিচ্ছেন। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন আপনাদেরকে সবসময় সুস্থ ও নেক হায়াত দান করেন।
ফম/এমএমএ/ইসমাইল/

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব | ফোকাস মোহনা.কম