
চাঁদপুর : জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনায় মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন রূপালী ইলিশের প্রধান মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অবসর সময় কাটাচ্ছেন। কখন নিষেধাজ্ঞা শেষে হবে ব্যবসায়ীরা এখন সেই অপক্ষোর প্রহন গুনছেন। আর মাত্র ৪ দিন পরেই ৩০ এপ্রিল রাত ১২টার পরে উঠে যাবে নিষেধাজ্ঞা। এরপরেই জেলার ৪০ হাজারের অধিক নিবন্ধিত জেলে নদীতে নামবেন মাছ আহরণ করতে।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাঁদপুর মাছঘাটে গিয়ে দেখাগেল নিরবতা। আড়তে অনেকেই ঘুমিয়ে রয়েছেন। আবার অনেকে বসে গল্প করছেন। দুটি আড়তের সামনে দেখাগেল চিংড়ি ও পোয়া মাছ। চিংড়িগুলো আসছে সাতক্ষীরা থেকে। স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা এখন থেকে ক্রয় করে পাড়া মহল্লার বাজারগুলোতে বিক্রি করবেন। দাম প্রতি কেজি ৬শ’ ৭শ’ টাকা। আর পোয়া মাছগুলো স্থানীয় নদীর। তবে পোয়া মাছের পরিমান দুই থেকে ৩ কেজি হবে।
মাছঘাটের কয়েকজন শ্রমিক জানালেন, আড়তে বেচা-কেনা বন্ধ থাকলে এর প্রভাব আশাপাশের অন্য ব্যবসায়ীদের উপরেও পড়ে। মাছঘাটের সাথে পরিবহন, বরফ ব্যবসায়ী, খাবারের হোটেল, মাছ প্যাকেট করার জন্য বক্স বিক্রির দোকানসহ সবগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই এখন অবসর। শ্রমিক হিসেবে আমরা যারা কাজ করি আমাদের রোজগারও বন্ধ।
মাছঘাটের পাশে চা দোকানে বসে গল্প করছেন জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি চাঁদপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক তছলিম বেপারী। তিনি বলেন, এ বছর অভিযানের সময় অনেকে জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরেছে। আবার অনেকে আটক হয়েছে। আমরা অভিযান সফল করার জন্য চেষ্টা করেছি। আশা করছি এ বছর দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যাবে।
মেসার্স হাজী মিজানুর রহমান কালু ভুঁইয়া মৎস্য আড়তের ম্যানেজার ওমর ফারুক বলেন, নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় দুই মাস আমাদের অবসর কাটাতে হয়েছে। অনেকেই আড়ৎগুলোর সংস্কার কাজ করেছেন। এখন অপেক্ষায় রয়েছি। ১ মে থেকে মাছের আমদানি হবে। আমাদের ধারণা এ বছর ইলিশের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির পোয়া, আইড় ও পাঙ্গাস মাছের আমদানি বাড়তে পারে।
চাঁদপুর মৎস্য বনিক সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বলেন, মৎস্য ব্যবসায়ীরা এখন ভাল নেই। দুই মাস সরকারের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা সহযোগিতা করেছি। আমরাও চাই ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি হউক। ১ মে থেকে মাছের আমদানি শুরু হলে ব্যবসায়ীদের অবস্থা ভাল হবে।
ফম/এমএমএ/


