কচুয়া (চাঁদপুর): চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বরুচর গ্রামে এক কুয়েত প্রবাসীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ-পোষণ ও খোঁজখবর না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই প্রবাসীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ে করারও অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী ও শ্বশুরপক্ষ। এ ঘটনায় স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত প্রবাসীর নাম আবু মুসা। তিনি বরুচর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার। প্রায় ২৩ বছর আগে ভালোবেসে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন আবু মুসা। বিয়ের পর তাদের সংসারে মনিরা আক্তার, মাকছুদা ও মাহমুদুল হাসান নামে তিন সন্তান জন্ম নেয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আবু মুসা বিদেশে অবস্থান করলেও স্ত্রী-সন্তানদের যথাযথ ভরণ-পোষণ ও খোঁজখবর রাখছেন না। এতে সংসারে নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকট। বড় মেয়ে মনিরা আক্তারের বিয়ে হলেও ছোট মেয়ে মাকছুদা আক্তার বিয়ের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছেছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তার বিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসানের পড়াশোনার খরচও নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
মাহমুদা আক্তারের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২৩ বছর আগে তার মেয়ে মাহমুদাকে পছন্দ করে বিয়ে করেন আবু মুসা। বিয়ের পর তাদের তিন সন্তান হয়। তিনি বলেন, “আমি একজন গরিব মানুষ। মেয়ে ও নাতি-নাতনীদের অসহায়ত্বের কারণে আমি নিজেও খুব বিপদে আছি। তাদের সংসারের দায়িত্ব নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, লোকমুখে তিনি জানতে পেরেছেন, গত ১৬ আগস্ট চাঁদপুরের বিজ্ঞ নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ের মাধ্যমে আবু মুসা তার মেয়েকে তালাক দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা ছাড়া একতরফাভাবে তালাক দেওয়ার বিষয়টি আমরা সামাজিকভাবে মেনে নিতে পারছি না। আমার মেয়ে ও নাতি-নাতনীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তিত। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য প্রশাসনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন মহলের সহযোগিতা চাই।
এদিকে স্থানীয়দের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাহমুদা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-সংসার সামলে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, স্বামী বিদেশে থাকার কারণে পরিবারের অনেক দায়িত্বই তাকে একাই পালন করতে হয়েছে। বর্তমানে স্বামীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি সন্তানদের নিয়ে অনেকটা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুনুর রশিদ, সফিকুল ইসলাম, কেফায়েত উল্লাহসহ আরও কয়েকজন বলেন, “মাহমুদা আক্তার আমাদের গ্রামে মধ্যে একজন নম্ন-ভদ্র ও খুবই ভালো মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী আবু মুসা স্ত্রী-সন্তানদের খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণ না দেওয়ায় তারা কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।” তারা আরও বলেন, পারিবারিক বিষয় হওয়ায় বিষয়টি সামাজিকভাবে বসে সমাধান করা সম্ভব। তারা আশা প্রকাশ করেন, আবু মুসা দেশে ফিরে এসে স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিষয়টির একটি সুষ্ঠু সমাধান করবেন। পরিবারটির দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে বিরোধই থাকুক না কেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ যেন অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে। বিশেষ করে মেয়ের বিয়ে ও ছেলের পড়াশোনার বিষয়টি বিবেচনা করে আবু মুসা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন-এমনটাই প্রত্যাশা পরিবারের।
এ অভিযোগের বিষয়ে আবু মুসা জানান, তার বৃদ্ধা মা আমেনা বেগমের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাকে তার বাড়ি থেকে মাহমুদা আক্তার তাড়িয়ে দিয়েছেন।
ফম/এমএমএ/



