কচুয়ার বুরগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান

কচুয়া (চাঁদপুর): শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উৎসাহিত করতে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের বুরগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তি, সম্মাননা ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এক উৎসবমুখর পরিবেশে ‘প্রফেসর সৈয়দা নুরুন্নাহার বেগম নিশু স্মৃতি ঘর ট্রাস্ট’ এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রয়াত প্রফেসর সৈয়দা নুরুন্নাহার বেগম নিশু ছিলেন সাবেক  যুব চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামের সহধর্মিণী। তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বুরগী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আল মাসুদ গাজী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক যুব চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের আলোকিত বাংলাদেশ গড়বে। তাদের স্বপ্নপূরণে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। মেধার মূল্যায়নই একটি উন্নত জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সমাজসেবক আব্দুল আজিজ মাস্টার, বুরগী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ মো. মাহবুব আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার এবং হাজীগঞ্জ পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মো. তরিকুজ্জামান সোহাগ। বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বুরগী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মো: তাজুল ইসলাম, গোহট উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ হোসেন জাকির ও কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বুরগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ রেহানা পারভীন। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখে ইশরাত জাহান ইভা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বশির উল্লাহ।

অনুষ্ঠান শেষে বৃত্তিপ্রাপ্ত সাতজন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ, সম্মাননা ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে।

স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা এ ধরনের উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ফম/এমএমএ/

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব | ফোকাস মোহনা.কম