কচুয়া (চাঁদপুর): চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামে এক প্রবাসীর ক্রয়কৃত জমি রেজিস্ট্রি ও পাওনা টাকা না দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোয় এবং হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের মোল্লা মার্কেটে ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আদালতের সু-দৃষ্টি কামনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক তদন্ত করার অনুরোধ করেন প্রবাসী বাবুল হোসেন ও গ্রামবাসী। গিয়াস উদ্দিন কর্তৃক মামলার সাক্ষীরা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর সাথে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবার বলেন, গিয়াস উদ্দিন একজন প্রতারক,মানুষের টাকা আত্মসাত কারী, ভূমি দখলদার ও মামলাবাজ। বাবুলের শাশুড়ি বিলকিস বেগমের কাছে ১২ শতাংশ জমি বিক্রয় করবে বলে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ৩টি বায়না স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ১১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা নেয় প্রতারক গিয়াস উদ্দিন। জমি রেজিস্ট্রি কথা বললে, বিভিন্ন অজুহাত দেখানো শুরু কওে গিয়াস উদ্দিন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশও হয়,সালিশের কোন সিদ্ধান্ত না মেনে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করে।
গত ২৩ জুন চাঁদপুর বিজ্ঞ আমলী আদালতে প্রবাসী বাবুল হোসেন স্ত্রী মিশু মুক্তা ও প্রবাসীর বৃদ্ধ শাশুড়িকে জড়িয়ে একটি মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে গিয়াস উদ্দিন। ১৬ জুন সন্ধ্যায় আমরা গিয়াস উদ্দিনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত যখন করছে বলে ওই মামলায় উল্লেখ করে । বাবুল ও তার স্ত্রী দুইজনে বাড়িতে আসলে হঠাৎ পুলিশ এসে আমাদেরকে ধরে নিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে। মিথ্যা মামলায় এক সপ্তাহ স্বামী ও স্ত্রী কারাভোগ করে।
প্রবাসী বাবুল হোসেন জানান, আমরা এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানতে পারি গিয়াস উদ্দিন সিএনজি দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পায়। তার দুর্ঘটনার বিষয়টি সাবেক ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেনকে অবগত করে। ঐদিন আমরাসহ পরিবার সবাই ঢাকায় ছিলাম। ওই দুর্ঘটনাকে পুঁজি করে বৃদ্ধ আমার শাশুড়ি,স্ত্রী মিশু মুক্তা ও আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দেয় আদালতে গিয়াস উদ্দিন। আমাদের ক্রয়কৃত জায়গা দাবি করলে গিয়াস উদ্দিন আমাদেরকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি ধামকি প্রতিনিয়ত দিয়ে আসছে। আমি প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দেশবাসীর কাছে ন্যায় বিচারের দাবি জানাই।
গিয়াস উদ্দিনের দায়েরকৃত মামলার সাক্ষী আলমগীর হোসেন জানান, প্রবাসী বাবুল ও তার পরিবার গিয়াস উদ্দিনকে হামলা করতে শুনিনি। বাবুল হোসেন ও তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করেন। গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নেই। আমাকে না জানিয়ে মিথ্যা মামলায় কেন সাক্ষী দিয়েছে, সকলের কাছে আমি তার বিচার চাই।
জুবায়ের হোসেন, আলী হোসেন, সোহরাব হোসেনসহ এলাকাবাসী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মাথা আঘাত পেয়ে, মিথ্যা নাটক সাজিয়ে প্রবাসী ও তার স্ত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে। এই ঘটনা এলাকার জন্য একটি ন্যাক্কার জনক। গিয়াস উদ্দিনসে এলাকায় দীর্ঘ না থেকে কচুয়া তার মেয়ের বাসায় থাকেন। এলাকায় কোন মারামারি এ ধরনের ঘটনা হয়নি।
তারা আরো জানান, গিয়াস উদ্দিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এলাকায় অনেক প্রভাব বিস্তার করেছেন। মানুষের টাকা আত্মসাৎ, জমি দখলসহ নানান অপকর্ম করে। বর্তমানে সেও এলাকার লোকজনের পাওনা টাকা না দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। আত্মগোপন থেকে সেই আদালতে বিভিন্ন মামলা দিয়ে এলাকার মানুষদেরকে হয়রানি করে আসছে।
আদালত ন্যায় বিচারের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক তদন্ত করার অনুরোধ জানান এলাকাবাসী। প্রতিবাদ সমাবেশে এলাকায় কয়েক শতাধিক লোকজন অংশগ্রহণ করেন।
একই দিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী বাবুল হোসেন ও তার পরিবার সাংবাদিকদেরকে মাধ্যমে মামলাবাজ গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
ফম/এমএমএ/



