ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর): নেশাগ্রস্ত স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে ফাতেমা বেগম পাখি (২৯) নামের এক নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমান্দারী গ্রামে ফাতেমার নানার বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতের কোনো এক সময় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। মৃত ফাতেমা বেগম পাখি রামগঞ্জ উপজেলার নয়নপুর গ্রামের সোহেল হোসেনের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে সামাজিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
ফাতেমার মা কোহিনুর বেগম জানান, সম্প্রতি ফাতেমার স্বামী সোহেল মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। নেশার টাকার জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে ফাতেমাকে মারধর করতেন। নির্যাতন সইতে না পেরে ফাতেমা কয়েক দিন আগে তাঁর নানার বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু স্বামী সেখানে গিয়েও নেশার টাকার জন্য তাঁকে মারধর করেন।
কোহিনুর বেগম আরও জানান, এ যন্ত্রণা সইতে না পেরে গতকাল রাতের কোনো এক সময় শয়নকক্ষের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন ফাতেমা। আজ সকালে ফজরের নামাজ পড়তে উঠে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখেন তিনি। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে পুলিশে খবর দেন।
ঘটনার পর থেকে ফাতেমা বেগম পাখির স্বামী পলাতক।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ফম/এমএমএ/


