কচুয়া (চাঁদপুর) : চাঁদপুরের কচুয়া ফায়ার সার্ভিস থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার কাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে মেরামতের কাজ শুরু হলেও ৫ দিনের মাথায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে স্বস্তির বদলে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের মাঝে এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়ক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই রাস্তায় কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব (থিকনেস) অত্যন্ত কম রাখা হয়েছে। নিম্নমানের পাথর, ইট ও নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করছেন ঠিকাদার। অনেক জায়গায় তো বিটুমিন বা ইটের খোয়া ছাড়াই সরাসরি মাটির ওপর পাথর ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই পাথর উঠে গিয়ে আগের মতো গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে কচুয়া পৌরসভার পলাশপুর, ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা, কান্দারপাড়, বালিয়াতলী, চকমাহমুদপুর, গুলবাহার বাজার এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সামনের অংশে সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, দায়সারাভাবে সড়কের কাজ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো তদারকি নেই। এই রাস্তা যে টিকবে না, তা কাজ দেখলেই বোঝা যায়।
সিএনজি চালক বিল্লাল বলেন, ভেবেছিলাম রাস্তা ঠিক হলে ভোগান্তি কমবে, কিন্তু ৫ দিনেই পাথর উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এখন গাড়ি চালানো আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারকে অনিয়মের বিষয়ে বারবার বলা হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। উল্টো তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে যাচ্ছে।
এবিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট তদারকি ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সড়কটি মেরামতের জন্য এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ হয়নি। জনদুর্ভোগ কমাতে একজন ঠিকাদার দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলে পরে তাকে অর্থ দেওয়া হবে। তবে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান এবং ফোন কেটে দেন।
উল্লেখ্য যে, কচুয়া থেকে হাজীগঞ্জ ও মতলব উপজেলার সংযোগকারী এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন সুরমা পরিবহনের বাস, মালবাহী ট্রাক ও অসংখ্য যাত্রীসাধারণ চলাচল করেন। দ্রুত এই সড়কটি সঠিক নিয়ম মেনে সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে ।
ফম/এমএমএ/


