স্কুলছাত্র শাকিব হত্যার রহস্য উন্মোচন: গ্রেপ্তার ২

কচুয়া (চাঁদপুর) : চাঁদপুরের কচুয়ায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক “ক্লুলেস” হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর স্কুল ছাত্র সাকিবের মাথার খুলি ও শরীরের কিছু হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত সাকিব হাসান উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নের জয়নগর (গাজী বাড়ী) এলাকার সৌদি প্রবাসী আব্দুল কাদেরের ছেলে। গেল বছর ৮ সেপ্টেম্বর  দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে বাইরে থেকে কেউ নাম ধরে ডাক দিলে সে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে সাকিবের দাদা মোস্তাজ উদ্দিন কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। খবর পেয়ে ভিকটিমের বাবা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ছেলেকে খুঁজতে থাকেন।

পরবর্তীতে ২৪ নভেম্বর স্থানীয় মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি তার কৃষিজমির পাশে ডোবা পরিষ্কার করার সময় মানুষের মাথার খুলি ও হাড়ের অংশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুলি ও হাড়ের সাতটি অংশ উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা রুজু করে। পরে উদ্ধারকৃত আলামত সিআইডি’র ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে পরীক্ষায় সেগুলো সাকিব হাসানের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিহতের বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে গত ০৭ মে ২০২৬ কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই ফ.ম শাহজাহান।

ঘটনার পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান, পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় কচুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল হাই এবং কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।

বিশ্বস্থ সোর্সের সহায়তায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে গত ০৮ মে সন্ধ্যা থেকে ০৯ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-আরমান গাজী (১৭) ও মেহেদী হাসান গাজী (১৭)। গ্রেফতারকৃত দু’জন উপজেলার সাচার ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, তারা সাকিবকে পুকুরে গোসল করার সময় পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ পানির নিচে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। রাতে মরদেহ তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে ইট বেঁধে পানির নিচে ফেলে দেয়, যাতে লাশ ভেসে না ওঠে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে শনিবার (১০ মে) আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম