সুজাতপুর কলেজে নিয়মবর্হিভূত সভাপতি পদে নিয়োগ দেয়ায় প্রতিবাদ

মতলব উত্তরের সুজাতপুর কলেজে নিয়মবর্হিভূত সভাপতি নিয়োগ দেওয়ায় প্রতিবাদ সভা করেন এলাকাবাসী।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলব উত্তরের সুজাতপুর কলেজের বিতর্কিত সভাপতি পদ নিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সভা করেছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকালে সুজাতপুর নেছারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে বক্তব্য রাখেন, সুজাতপুর কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাসুদ পারভেজ, প্রভাষক মোঃ শাহীন খান, হিতৈষী সদস্য মোঃ আরিফ হোসেন, সমাজসেবক জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মোস্তফা কামাল (জয়নাল), মোঃ নুরুল আমিন, মোফাজ্জল হোসেন, মোঃ জসিম বকাউল, মোঃ আবু প্রধান, শাহীন সরকার, মোঃ নাসির সরকার, মোঃ কাউসার সরকার, মোঃ নুরে আলম, মোঃ মোস্তফা ডাক্তার, মোঃ মিজান সরকার, মোঃ হালিম সরকার, মোঃ জয়নাল প্রধান সহ আরো অনেকে।

অধ্যক্ষ মাসুদ পারভেজ বলেন, কলেজের বর্তমান গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২ আগস্ট। সেই অনুপাতে আমরা কলেজে সকলের সমন্বয়ে মিটিং করে রেজুলেশনের মাধ্যমে সভাপতি পদের জন্য ৩ জনের নাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাই। কিন্তু তালিকায় না থাকা একজনের নাম সভাপতি হিসেবে চিঠি আসে। আমার জানামতে তা সম্পূর্ণ নিয়মবর্হিভূত হয়েছে। দ্রুত এই চিঠি বাতিল করার জন্য আমি ভিসি মহোদয়ের নিকট অনুরোধ করবো।

সমাজসেবক জসিম উদ্দিন বলেন, অসাধুপায়ে অ্যাড. বোরহান উদ্দিন নামে একজনকে সুজাতপুর কলেজের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। এ ধরনের অনিয়ম দূর্নীতি আমরা মেনে নিতে পারি না। নিয়মের বাইরে যে-ই সভাপতি হবে তাকে এখানে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, অ্যাড. বোরহান উদ্দিন একজন সম্মানী লোক, তিনি যদি সভাপতি হতে চাইতেন, তাহলে অবশ্যই আমাদের এলাকাবাসীর সঙ্গে আগে কথা বলতেন। কিন্তু তিনি তা না করে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে সভাপতি হয়েছেন। আমরা এলাকাবাসী এটা কখনো মেনে নিতে পারি না। এবং তাকে এই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতে দিব না।

আরিফ হোসেন বলেন, বিগত দিন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যেভাবে অনিয়ম দূর্নীতি হয়েছে, যদি এখনো তা হয়, তাহলে পরিবর্তন হল কি? এখনো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটি জায়গায় অসাধু কর্মকর্তারা অসাধুপায়ে কলেজের সভাপতি নির্বাচন করেন। এটা আমরা নতুন বাংলাদেশে কামনা করি না। যত দ্রুত সম্ভব এই চিঠি বাতিল করে সুজাতপুর কলেজ থেকে যে তিন জনের নাম দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে একজনকে নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে এই সভাপতিকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না।

সভায় উপস্থিত সকল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিবর্গ এই বক্তব্যে সাথে একমত পোষন করেন এবং একই বক্তব্য তুলে ধরেন। এবং দ্রুত বোরহান উদ্দিনকে বাতিল করে কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩ জনের মধ্যে একজনকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃর্ষ্টি আকর্ষণ করেন এলাকাবাসী।

এদিকে উপজেলা শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজের কমিটির বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কোন সম্পৃক্ততা নেই। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড থেকে নির্বাচন করা হয়।

ফম/এমএমএ/

আরাফাত আল-আমিন | ফোকাস মোহনা.কম