চাঁদপুর: গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রশাসনের নাম করে কেন্দ্রপ্রতি ৪০ হাজার টাকা উত্তোলনকারী ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইউএনও’র গাড়িতে করে কেন্দ্র পরিদর্শন এবং বিগত পরীক্ষায় কেন্দ্রের সবচেয়ে বেশী দুর্নীতির বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা একাডেমী সুপারভাইজারকে উপজেলার সর্বাধিক পরীক্ষার্থীর কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া সহ উপজেলায় পরীক্ষায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতির থাকলেও পরীক্ষা শুরুর এক ঘন্টার মধ্যেই প্রশাসন থেকে সাংবাদিকদের কেন্দ্রে প্রবেশ না করা বিষয়ে আসে নিষেধাজ্ঞা।
কোন কোন সাংবাদিক চলমান এসএসসি ও সমান পরীক্ষার কেন্দ্র ঘুরে দেখতে কেন্দ্র সচিবের অনুমতি চাইতে গেলে কেন্দ্র সচিব জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষা চলাকালে সাংবাদিকদের কেন্দ্রে প্রবেশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে । তাই সাংবাদিকরা তর্কে না জড়িয়ে ফিরে এসেছেন। শর্তসাপেক্ষে কেন্দ্র পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের এরকম কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উপজেলার সাংবাদিকরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলার সিনিয়র কয়েকজন সাংবাদিক জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এরকম নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের এই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা খুবই দুঃখজনক।
মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলার প্রাচীনতম চরকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি দীর্ঘ সময়ের সদস্য ও উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আব্দুল গনি তপাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকরা পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে আরো সহায়ক বলে আমি মনে করি। কিন্তু সে জায়গায় পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় চলতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উপজেলার ফরাজীকান্দি কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষা দেখতে গেলে কেন্দ্র সচিব অতাউল করিম মুজাহিদ সাংবাদিকদের জানান, একটু আগেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় পরীক্ষা চলাকালীন কোন সাংবাদিক যেনো পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ না করেন সে বিষয়ে সকল কেন সচিবকে মোবাইল ফোনে নির্দেশনা দিয়েছেন। কাজেই, আমার কিছু বলার নেই আপনার কোন কথা থাকলে ইউএনও ম্যাডামকে বলেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আলম গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম করে কেন্দ্র প্রতি ৪০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করার বিষয়টি উপজেলার ৮ কেন্দ্রের কয়েকজন কেন সচিব নিশ্চিত করেন। তবে তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুরোধ জানান। কেননা, উনি খুবই প্রভাবশালী। তাই তার মতের বাইরে গেলেই তিনি অনেক ক্ষতি করে ফেলবেন। চলতি এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে তার গাড়িতে করে কেন্দ্র পরিদর্শনে আসলেও উনার অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের জন্য এখনো টাকার বিষয়ে কোন কথা বলেননি বলেও তারা জানান।
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, নির্দেশনাটি মূলত আমার না। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মহোদয় আমার মুঠোফোনে এই নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি শুধু নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করেছি।
ফম/এমএমএ/


